সহকারী জজ হলেন ববির সুব্রত

ফেব্রুয়ারি ২৮ ২০২৫, ১৯:৩৪

তানজিদ শাহ জালাল ইমন, ববি প্রতিনিধি॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সুব্রত পোদ্দার ১৭তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী জজ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। যদিও স্নাতকে তিনি ২.৯৮ সিজিপিএ (দ্বিতীয় শ্রেণি) পেয়েছিলেন, তবে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি এই গৌরব অর্জন করেছেন।
সুব্রত পোদ্দারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা গোপালগঞ্জের শুকতাইল ইউনিয়নের পাইকেরডাঙ্গা গ্রামে। বাবা শিবেন পোদ্দার ও মা সুমিত্রা পোদ্দারের দুই সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে পড়াশোনা করে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৫৬ ও এইচএসসিতে ৪.৫০ অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি বিজ্ঞান বিভাগেই উচ্চশিক্ষা নেবেন, তবে ভাগ্যের চক্রে তিনি আইন বিভাগে ভর্তি হন।
প্রথমদিকে মানবিক শাখার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না তাঁর। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আইন বিষয়টি নতুন ও ভিন্ন মনে হয়েছিল। তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ধীরে ধীরে বিষয়টির প্রতি ভালোবাসা জন্মে যায়। আইন পড়তে পড়তেই তাঁর স্বপ্ন বোনা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে একদিন অতিরিক্ত জেলা জজ ক্লাস নিতে এসেছিলেন। তিনি পুলিশের প্রোটোকলে আসতেন, যা সুব্রতের মধ্যে বিচারকের মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে। সেই মুহূর্তেই তিনি উপলব্ধি করেন, এটিই তাঁর ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এরপর থেকে তিনি আইনকে ভালোবেসে পড়তে শুরু করেন এবং বিচারক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করেন।
নিজের তুলনামূলক কম সিজিপিএ নিয়ে সুব্রত বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২ জন সহকারী জজ নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আমার সিজিপিএ সবচেয়ে কম। এটি আত্মবিশ্বাসে কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল, তবে আমি কখনো হাল ছাড়িনি। আমি নিয়মিত পড়াশোনা করেছি এবং অবশেষে সহকারী জজ পরীক্ষায় ৯৫তম হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাইও কম সিজিপিএ থাকা সত্ত্বেও বিচারক হয়েছিলেন। তাঁর গল্প থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন সুব্রত। পাশাপাশি মা-বাবা, সহধর্মিণী, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের সমর্থন ও সহযোগিতাও তাঁর এই যাত্রাকে সহজ করেছে।
সুব্রত পোদ্দার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “সিজিপিএ কম বা বেশি—এটি মূল বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম। আমি প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। এতে আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় যে আমি সফল হবই। তিন বছর ধরে লেগে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা আমার প্রতি সহায় হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বলবো, আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।”
সুব্রত পোদ্দারের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়, যদি আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম থাকে। তাঁর গল্প বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া