আলিমাবাদ ভূমি অফিসে ঘুষ বানিজ্য-হয়রানির অভিযোগ

তহসিলদার সোবাহানের অঢেল সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন!

অক্টোবর ৩১ ২০২৬, ০২:৪৮

আরিফ হোসেন ॥ ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি ঝালকাঠি পৌর ভূমি অফিসে ছুটির দিনে রাতে কাজ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে পটুয়াখালীর বাউফলে নামজারির জন্য টাকা দাবি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হয়।

 

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে উঠেছে ঘুষ, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আলিমাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) সোবাহান। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, জমির নামজারি, জমাভাগ, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের মতো সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

বিশেষ করে নামজারির ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ প্রবাদটি যেমন হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া বা রাতারাতি বড়লোক হওয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

ভূমি অফিসের একজন তহশিলদারের (ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) সোবাহান ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি যুক্ত হওয়ার পেছনে সাধারণত দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমান পাওয়ার কারনেই কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

নামজারিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতার মুখে পড়তে হয়। নামজারি ও জমাভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নির্ধারিত সরকারি ফি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেক সেবাগ্রহীতা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে প্রতিবাদ করতে পারেন না। কেউ কেউ দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশায় বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, নামজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় প্রকৃত সরকারি ফি কত, আবেদন নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগার কথা এবং কোনো সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে তার দায় কার? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট আবেদন, অর্থ পরিশোধের রসিদ, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও অফিসের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

সম্পদ নিয়ে আলোচনা, প্রয়োজন অনুসন্ধান
তহসিলদার সোবাহানের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশাল নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া এলাকার জানকী সিংহ রোডে প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, জমি ও নির্মাণাধীন ভবনটির সম্মিলিত মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

তবে জমি ও ভবনটির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, নির্মাণব্যয়, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদের সঙ্গে তহসিলদার সোবাহানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্কের বিষয়ে দলিলভিত্তিক তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে শুধু ভবন নির্মাণ বা সম্পদের পরিমাণ নিয়ে স্থানীয় আলোচনা থেকেই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

জমির দলিল, নামজারি নথি, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, করসংক্রান্ত তথ্য এবং আয়-সম্পদের বৈধ উৎস যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

দালালচক্রের অভিযোগ, নজরদারির দাবি
ভূমি অফিসকে ঘিরে দালালচক্রের মাধ্যমে অনিয়ম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা ভূমিসেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য উদ্বেগজনক। তবে কথিত দালালদের পরিচয়, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে কাউকে দায়ী করা যায় না।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, আলিমাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি ও জমাভাগের আবেদন, সরকারি ফি আদায়ের হিসাব, সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং নিষ্পত্তির সময়সীমা পর্যালোচনা করা হোক।

একই সঙ্গে তহসিলদার সোবাহানের আয়-সম্পদের তথ্য আইনসম্মতভাবে যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধানের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বক্তব্য ও নথি যাচাই জরুরি
ভূমি মানুষের মূল্যবান সম্পদ ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ খাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তাই আলিমাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তহসিলদার সোবাহানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠো ফোনে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ভাই , এক অফিসারের বাসায়, কেন অফিসারের বাসায় আছেন জানতে চাইলে প্রতিবেদকের উত্তরে তিনি বলে মেহেন্দিগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলীর বিষয়ে এক স্যারের সাথে তার বাসায় কথা বলতে আসছি।

প্রতিবেদক সোবাহানকে তার বরিশালে সম্পত্তি ক্রয়ের বিষয়ে , বহুতল বাড়ি নির্মান ও দূর্নীতির এবং ঘুষ গ্রহনের বিষয়ে জানতে প্রশ্ন করা হলে সোবাহান বলেন আমি এখন ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেয়। তার অভিযোগ গুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ প্রবাদটি ব্যবহার করার হলো যেমন হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদের মালিক হওয়া বা রাতারাতি বড়লোক হওয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

ভূমি অফিসের একজন তহশিলদারের (ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি যুক্ত হওয়ার পেছনে সাধারণত দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমান পাওয়ার কারনেই কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) সোবাহানের অনিয়ম ও দূর্নীতির করে অঢেল সম্পদ ও বহুতল বাড়ি নির্মান, জমি ক্রয় সহ ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগের বিষয় নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফাহিম হাসান খান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তার অঢেল সম্পদের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। তবে আমি এখানে কিছুদিন হয়েছে এসেছি। আমার আসার পরে কিছু অভিযোগও তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। যেমন নামজারী আবেদন করার পরই সেটাকে আমি দ্রুত সর্ম্পূন করি। কারন হচ্ছে তসিলদাররা নামজারী আটকিয়ে টাকা দাবি করে এরকমের বহু অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তসিলদার এর অনিয়ম-দূর্নীতির সংবাদ গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি যদি জেলা প্রশাসক স্যার তদন্ত কমিটি গঠন করলে। তদন্ত করে অভিযুক্ত তসিলদার সোবাহান এর বিরুদ্ধে আইনঅনুযাযী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আলিমাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) সোবাহানের অনিয়ম ও দূর্নীতির করে অঢেল সম্পদ ও বহুতল বাড়ি নির্মান, জমি ক্রয় সহ ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকার এর সাথে কথা হলে তিনি বলে বিষয়টি দেখা দায়িত্ব মূলত দুদকের। তবে তশিলদারের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ গুলো প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া