ঘূর্ণিঝড় মোখা: ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় উপকূলবাসী
মে ১২ ২০২৩, ১৮:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রতিবছরই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে হয় সাগর পাড়ের জেলা পটুয়াখালীর এই উপকূল অঞ্চলের মানুষদের। ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করা এই অঞ্চলের মানুষের নিয়মমাফিক কাজ। প্রতি বছরেই ঝড়ের খবরে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার মানুষদের।
নদী বিধৌত জেলা পটুয়াখালীতে রয়েছে- পায়রা, আগুনমুখা, বুড়া গৌরাঙ্গ, তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ, আন্ধার মানিকসহ বিভিন্ন প্রমত্তা নদ-নদী। এসব নদ-নদীর প্রমত্ততায় প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের ঘরবাড়িসহ ফসল ও মাছের ঘের।
বিশেষ করে বর্ষাকাল ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় নদী তীরের মানুষগুলোর জীবন হয়ে পাড়ে দুর্বিষহ। জানমাল ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে এসব মানুষগুলো হয়ে পড়ে নিঃস্ব। তাই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জানমাল রক্ষার দাবি ভুক্তভোগীদের।
রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়ার বাসিন্দা সোহাগ রহমান বলেন, নদী ভাঙনে স্কুল মসজিদ ঘর-বাড়িসহ অনেক স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। দু দফা ভাঙনে আমাদের পরিবারের অনেক জমি-জমা ঘরবাড়ি এখন নদী গর্ভে। বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েক হাজার মানুষ। স্বাভাবিক জোয়ারের সময়েই ঘরের মধ্যে পানি চলে আসে। ফলে পানিবাহিত নানা রোগসহ চর্ম রোগে আক্রান্ত হয় এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী আমির হোসেন হাওলাদার বলেন, নদীর পাড়ে আমাদের বাড়ি ছিল ভাঙনে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন কোনরকম ঘর করে আছি। তাও ঝুঁকির মুখে। আমাগো এহানে বাঁধ না দেলে আমাগো কষ্টের আর শ্যাস নাই।
চালিতা বুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাবানা বেগম বলেন, আমরা দুই বেলা তলাই। রান্না-বান্না কইরা খামু হেয়ার পথ নাই। চুলার মধ্যে পানি জইম্যা থাহে।মাঠের ফসল পইচ্যা যায়, মাছের ঘের তলাইয়া যায়, বার বার ক্ষতির মুহে পইরা আমরা নিঃস্ব হইয়া যাইতাছি। এহন আমাগো বেড়িবাঁধ না দেলে আমাগো এলাকা ছাইড়া যাইতে হইবে।
চালিতা বুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের পরিবার দুইবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারস্থ হয়েছি।
তারা বারবার আশ্বাস দিচ্ছেন সম্প্রতি শুনেছি প্রকল্প প্রণয়ন করে পাঠানো হয়েছে। তবে আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়লে এই এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুসারে জেলায় ৩৬টি পোল্ডারে বেড়িবাঁধ রয়েছে মোট ১৩৭০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ১৮ কিলোমিটার আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৯ কিলোমিটার।
এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলার চরআন্ডা ও চালিতাবুনিয়ার কিছু অংশে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনের কারণে শঙ্কায় রয়েছে মির্জাগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ, কলাপাড়া উপজেলার ধুলাস্বার, দেবপুর, নিজামপুর, লালুয়াসহ বেশ কিছু এলাকা। আরো ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া, চার লতা, চর মোন্তাজসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটুয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে বেশকিছু এলাকার বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে।অন্যান্য এলাকাগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় আমাদের হাতে ২০ হাজার জিও ব্যাগ রয়েছে যা দিয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নদী ভাঙন রোধ এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে উপকূল রক্ষা করবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা উপকূলের মানুষদের।









































