ভোলায় গরু চুরির সন্দেহে যুবককে নির্যাতন মেম্বারসহ আটক ২
ফেব্রুয়ারি ২৩ ২০২৩, ১৬:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ভোলায় গরু চুরির সন্দেহে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এক যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় ইউপি সদস্য ও গ্রাম-পুলিশকে (চৌকিদার) আটক করেছে ভোলা সদর থানা-পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে পরিচয় শনাক্ত করে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিমউদ্দীন খালাসি (৪৫) ও একই চৌকিদার কান্টুকে (৫০) আটক করা হয়।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকির।
নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম—তাহের আলম (২৩)। তিনি বরিশাল অঞ্চলের শ্রীপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন জেলে। তিনি তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জানিয়েছেন।
নির্যাতনের এ ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার সকালে। পরে ওই দিন দুপুরেই শ্রীপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোতাহার জমাদ্দার ডেকে তাঁর জিম্মায় দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, এক যুবককে রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের একটি ভিডিও বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়-এই ঘটনা ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বান্দের পাড় এলাকার ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে।
এ সময় ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দীন খালাসি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সামনেই ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়েছে। রহিম নামে এক যুবক ওই নির্যাতনের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি ওই যুবকের ডান হাতে রশি পেঁচিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন।
সেই সঙ্গে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করছেন। এ সময় নির্যাতনের শিকার ওই কিশোর ‘মারে-বাবারে’ বলে চিৎকার করছেন এবং নির্যাতন না করার আকুতি জানাচ্ছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দীনসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা কিশোর রহিম জানান, গরু চুরির সন্দেহে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছি। নির্যাতনকারী ভোলার বাপ্তা ইউনিয়নের শুটিং স্কুল এলাকার চৌকিদার কান্টু।
এ বিষয়ে আটক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দীন খালাসি জানান, ঘটনার দিন সকালে অপরিচিত ওই যুবককে স্থানীয় বান্দের পাড় এলাকায় দেখতে পান তিনি। এ সময় তিনি তাঁর পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে সেখানে আরও অনেক লোকের সমাগম ঘটে।
এ সময় চৌকিদার কান্টু মোটরসাইকেলযোগে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি তাঁর চুরি হওয়া গরু খুঁজতে বের হয়েছিলেন। পরে ওই যুবককে দেখতে পেয়ে তিনিও পরিচয় জানতে চান।
পরে ওই যুবক শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা হয়ে, এখানে কেন এসেছেন এমন প্রশ্ন রেখেই রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতন করে তার কাছ থেকে গরু চুরির বিষয়ে তথ্য আদায়ের চেষ্টা করেন।
কিন্তু যুবক বারবারই চুরি সংক্রান্ত কোনো ঘটনা জানেন না বলে, নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আকুতি জানান। পরে শ্রীপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোতাহার জমাদ্দারকে ডেকে তাঁর জিম্মায় ওই যুবককে তুলে দেওয়া হয়।
ইউপি সদস্য জসিম উদ্দীন বলেন, ‘কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই চৌকিদার তাঁকে মারতে শুরু করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেও কেউ থামাতে পারেনি।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোতাহার জমাদ্দার জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম খালাসি তাঁকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন এবং ওই যুবককে তাঁর জিম্মায় দিয়ে দেন। ওই যুবক মূলত মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরে তিনি তাহেরকে নিয়ে শ্রীপুর চলে যান। শ্রীপুরে নিয়ে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা করান।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকির বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দীন ও কান্টুকে চৌকিদারকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
আ/ মাহাদী









































