ভোলা/ বিসিক শিল্প নগরীর বেহাল দশা, তিন দশকেও পায়নি গতি

জানুয়ারি ১১ ২০২৩, ২২:২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: তিন দশকেও কাঙ্ক্ষিত শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে।

প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের প্রতিটি জেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) গড়ে তুলেছে।

এরই অংশ হিসেবে ১৯৯২ সালে ভোলার চরনোয়াবাদ এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমিতে বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়।

জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে প্রতিষ্ঠিত বিসিক নগরীর এক পাশে ভোলার খাল অপরপাশে খেয়াঘাট সড়ক। ফলে পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত আদর্শ স্থান।

সরোজমিনে জানা যায়, জ্বালানি সংকটসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিসিকের ৪৮টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১৭টি শিল্প ইউনিটে কার্যক্রম চলছে। বাকিগুলো খালি পড়ে আছে।

বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় অনেকেই কারখানা চালু করতে পারছেন না। গ্যাস সংযোগ পেলে এখানে দ্রুত শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।

এদিকে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিক কতৃপক্ষ। উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে আছে বিসিক নগরী।

তবে গত এক দশক আগে যখন ভোলার শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় তখন এই শিল্প নগরীতে গ্যাস সংযোগ পাবেন এমন আশায় অনেক উদ্যোক্তা প্লট বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১০ বছরেও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়নি।

তা ছাড়া বিসিকের শেষ প্রান্তে অবস্থিত খালপাড়ের জেটি ব্যবহার করে খাদ্য গুদামের পণ্য উঠানো নামানো হচ্ছে।

ফলে বিসিকের ভেতরের রাস্তায় খাদ্য গুদামের ভারী ভারী ট্রাক যাতায়াত করায় এর অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ভেঙে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে এখানে প্লাস্টিকের কন্টেইনার ও প্লুট তৈরি, বিস্কুট, চানাচুর ও আইসক্রিম তৈরির কারখানা রয়েছে। রয়েছে চাল ও ময়দার মিল।

অথচ বিসিকের ৯৩টি প্লটের মধ্যে ৮৬টি প্লট শিল্প কারখানার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা এসব প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় কারখানা প্রতিষ্ঠা করেননি।

দু’একজন কারখানা করে লোকসানের কারণে বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ কারখানা তৈরি করেও গ্যাসের সংযোগ না পাওয়ায় চালু করতে পারছেন না।

যারা নতুন এসেছেন তারাও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন কি না- তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ২০১৩ সাল হতে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তলিত প্রাকৃতিক গ্যাস ভোলায় সরবরাহ হয়ে আসছে। অথচ আজও বিসিকে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অতি দ্রুত ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবে-এমনটাই আশা করছেন তারা।

শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ভোলা বিসিক শিল্প নগরীতে ছোট বড় মিলিয়ে ১৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু আছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিকের উপব্যবস্থাপক মো. সোহাগ হোসেন জানান, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ থাকলেও এখনও গ্যাস সংযোগ পায়নি বিসিকের উদ্যোক্তারা।

আ/ মাহাদী

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া