বরিশাল কর অঞ্চলের ১৩৯ পদ শূন্য, সেবাদান ব্যাহত
জানুয়ারি ১১ ২০২৩, ১০:৫৩
ডেস্ক প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরিশাল কর অঞ্চলের ২২টি সার্কেলে মঞ্জুরীকৃত ২৬৫ পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৩৯টিই শূন্য। ২২টি সার্কেলের উপকমিশনারের পদে রয়েছেন মাত্র আটজন। এছাড়া ভাড়া বাড়িতে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।
বরিশালে কর অফিসের জন্য একটি বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রায় দেড় যুগ নানা টেবিলে ঘুরপাক খেয়ে সর্বশেষ প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় ৮০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ওই ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে তা সঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না। এমন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও গত অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে আয়কর আদায়ে সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বেশি।
বরিশাল কর অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলজুড়েই কর প্রশাসন চলছে জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে। বরিশাল কর অঞ্চলের ২২টি সার্কেলে মঞ্জুরীকৃত ২৬৫টি পদের মধ্যে ১৩৯টিই শূন্য অবস্থায় রয়েছে। ২২টি সার্কেলের উপকমিশনারের পদে মাত্র আটজন কাজ করায় একজন উপকমিশনারকে একাধিক সার্কেলের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন উপ-কর কমিশনার থেকে যুগ্ম কর কমিশনার পর্যন্ত সব পদেই জনবল সংকট চলছে। এমনকি তিনজন যুগ্ম কর কমিশনার পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন। ২৯ পরিদর্শকের আটটি পদে কোনো জনবল নেই।
অন্যদিকে বরিশাল মহানগরীর নিজস্ব ও ভাড়া বাড়িতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কর কমিশনারসহ বিভিন্ন সার্কেলের দপ্তরগুলোয় অনেক সময়ই কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কারদাতারাও ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।
২০০১ ও ২০০২ অর্থবছরে মাত্র ২৩ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের মধ্য দিয়ে বরিশাল কর অঞ্চলের যাত্রা শুরু হলেও এনবিআরের নজরদারিসহ করদাতাদের ইতিবাচক মনোভাবে বিগত ২০ বছরে তা ৬৫০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি করদাতার সংখ্যাও মাত্র ২০ হাজার থেকে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯৩ হাজারে উন্নীত হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৭৮ হাজারের কিছু বেশি। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণাঞ্চলে করদাতার সংখ্যা লাখের অংকে পৌঁছবে বলে আশাবাদী কর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় টিআইএনধারীর সংখ্যাও প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
করোনা মহামারী সংকট অতিক্রম করে গত অর্থবছরে দক্ষিণাঞ্চলে আয়কর আদায়ে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। বিভাগে মোট আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা থেকে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বরিশাল কর অঞ্চল। আয়কর আদায়ের পরিমাণ বিগত বছরগুলোর তুলনায় যথেষ্ট ভালো এবং আশাব্যঞ্জক বলে জানিয়েছেন বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার কাজী লতিফুর রহমান।
বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার কাজী লতিফুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে কর আহরণ প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কর দাতাদের ওপর কোনো অনৈতিক চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এর পরও যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতি গৃহীত হচ্ছে। জনবল সংকট প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি এনবিআরসহ অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।








































