আজ বিএনপির গণমিছিল, সতর্ক আ’লীগ
ডিসেম্বর ৩০ ২০২২, ১০:১০
অনলাইন ডেস্ক : যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিল নিয়ে আজ শুক্রবার রাজধানীতে একযোগে মাঠে নামছে বিএনপিসহ ৩৩ রাজনৈতিক দল। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বেশ কিছু দাবিতে ঢাকায় এই কর্মসূচি পালন করবে তারা। কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দিনটিও ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করবে বিরোধীরা।
এদিকে, আওয়ামী লীগ রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক পাহারায় থাকবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গণমিছিল নিয়ে বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জোট, জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি ও গণফোরামের একটি অংশ যুগপৎভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
জানা গেছে, গণমিছিল থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে। গতকাল দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এক নেতা জানান, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দাবি আদায় করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। গণমিছিল কর্মসূচি পালনের পর সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এটা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
যেভাবে বিএনপির গণমিছিল
বিএনপির গণমিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তা গয়ে ফের নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হবে। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিভাগীয় গণমিছিলের প্রধান সমন্বয়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আমাদের গণমিছিল হবে শান্তিপূর্ণ। দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ হয়ে মগবাজার চৌরাস্তা ঘুরে ফের নয়াপল্টনে এসে শেষ হবে।’ ঢাকাবাসীকে গণমিছিল সফল করার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, ‘গণমিছিল করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেটার জন্যই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার জন্য ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়ে ছিলাম। আশা করছি, ডিএমপি আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’
জানা গেছে, নয়াপল্টন ও এর আশপাশের ১৩টি স্পটে গণমিছিল উপলক্ষে জমায়েত হবে বিএনপির নেতাকর্মীরা। মূল মিছিল শুরু হবে দুপুর আড়াইটায় কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড় থেকে। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে থাকবেন শুধু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখানে তিনজন ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি উপস্থিত থাকবেন। বক্তব্য দেবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
এ ছাড়া মূলদল, অঙ্গ ও সহযোগী এবং পেশাজীবী সংগঠনের জন্য মিছিলের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, নাইটিংগেল মোড়ে গণমিছিলের সম্মুখে থাকবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। তারপরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এখানে সমন্বয় করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রশিদ হাবিব। একই স্থানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গণমিছিলের সমন্বয় করবেন আমিনুল হক ও হায়দার আলী লেলিন। এরপর নয়াপল্টন রোডে ঢাকা ব্যাংকের সামনে ছাত্রদলের গণমিছিল সমন্বয় করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হোসেন শ্যামল, আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে কৃষকদলের মিছিলে সমন্বয় করবেন কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল হোসেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলের সমন্বয় করবেন ওমর ফারুক শাফিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে হোটেল ভিক্টোরির সামনে পেশাজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা দলের মিছিলে সমন্বয় করবেন রবিউল ইসলাম রবি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মিছিল সমন্বয় করবেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো।
কড়াই গোস্তের সামনে যুবদলের মিছিল সমন্বয় করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বেলাল আহমেদ। পল্টন চায়না মার্কেটের সামনে ঢাকা জেলা বিএনপির মিছিল সমন্বয় করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান বিপ্লব। জোনাকি হলের সামনে শ্রমিক দলের মিছিলে সমন্বয় করবেন কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির। পল্টন থানার উল্টো দিকে মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও ওলামা দল এবং জাসাসের মিছিলে সমন্বয় করবেন আমিরুজ্জামান খান শিমুল ও শেখ মো. শামীম। ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির মিছিলে সমন্বয় করবেন কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
এসব স্পটে নেতাকর্মীরা জমায়েত হওয়ার পর সম্মিলিতভাবে গণমিছিল শুরু ও শেষ হবে।









































