মেসের ছিটকিনি নিয়ে বিরোধ, ববিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ
সেপ্টেম্বর ০৫ ২০২৬, ২১:২৫
হৃদয় কুমার, ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জেরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরে এতে কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও জড়িয়ে পড়েন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ছাতিমতলা এলাকায় কয়েক দফায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈকতের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোভন ও আজমের কথা-কাটাকাটি হয়। মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোর বিষয়টি নিয়ে জুনিয়র ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে সৈকতকে গালাগাল করে মেস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের কয়েকটি বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালান এবং কয়েকটি বাসায় তালা লাগিয়ে দেন। পরে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে জানিয়ে তালা খুলে দেওয়া ও বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
শুক্রবার বিকেলে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে ছাতিমতলার একটি দোকানে দুই পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ঘটনাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশ্রাফুল বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, রাত ১২টা থেকে ১টার দিকে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সৈকতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছেন এবং বাসাগুলোতে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি প্রক্টরকে জানালে তিনি আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তালা খুলে দেওয়ার কথা বলেন।”
তিনি আরও বলেন, “সন্ধ্যার দিকে আমরা তালা খুলতে গেলে সেখানে একটি পেরেক মারা দেখতে পাই। পরে মেসের মালিককে ডাকলে তিনি নামাজে থাকায় মেসের আরিফ ভাইকে ডাকা হয়। তিনি উচ্চস্বরে কথা বললে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। পরে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষের পাঁচজন করে বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংকের নিচে আলোচনার জন্য অবস্থানকালে কেমিস্ট্রি ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের ওপর হামলা করেন।”
তবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন।
সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।”
এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন কি না এবং কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে কি না, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।








































