বরিশালে জলবায়ু পরিবর্তন মানবাধিকার বিষয়ে ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

ডিসেম্বর ২৮ ২০২২, ২০:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জলবায়ু পরিবর্তন মানবাধিকার বিষয়ে কমিউনিটির জনগন ও যুবকদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা তৈরি করা ও বিপদাপন্নতা হ্রাস করা বিষয় ডায়ালগ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে নগরীর আমির কুটি সংলগ্ন আভাস ট্রেনিং সেন্টার প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক ও উপসচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর শাহ সাজেদা।

আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবা অফিসের প্রশান্ত বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি অফিসার নার্গিস আরা মুক্তা, এ্যাডভোকেট মোর্শেদা হক, বরিশাল আব্দুর রব সেরনিয়াবাত প্রেসক্লাবের আমজাদ হোসেন, সাংস্কৃতি কর্মী শুভংকর চক্রবর্তী, সিনিয়র সাংবাদিক স্বপন খন্দকার, হাছিনা বেগম নীলা, আভাসের প্রকল্প কর্মকর্তা সঞ্জয় বিশ্বাস সহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বলা হয় সারা বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে। তার প্রভাব বাংলাদেশর উপর পরেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে নানা রোগব্যাধি দেখা দিয়েছে ।

এটি প্রতিকার না করা গেলে আগামীতে ঝুঁকির মধ্যে পরবে বাংলাদেশ। এর জন্য দায়ী আমরা নিজেরা। কারন বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক এর ব্যবহার বাড়ছে। এটি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিশেষ করে নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

বেশি প্রভাব পরছে কিশোরীদের উপর। এই প্লাস্টিকে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কারন এই প্লাস্টিক ৪৫ থেকে ১ হাজার বছর লাগে পঁচতে। অনেক সময় এটি পঁচেনা যার ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। ফসলাদি কম হচ্ছে। শুধু প্লাস্টিকে দাই করলে চলবে না অধিক ক্ষতিকর পলিথিন। এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

নদীতে পলিথিন আর বর্জ্য ফালানোর কারনে নদী তার নাব্যতা হারাচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে দিন দিন মাছের সংখ্যা কমে আসছে । যখন মাছের মৌসুম তখন নদী সমুদ্রে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছে ভাতে বাঙালি আর এই মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সকলে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে নদী ভাঙন, গাছ মরে যাচ্ছে, পশুপাখি বিলুপ্ত হচ্ছে। হাঁস মুরগি পালনে বাঁধাগ্রস্থ, বাল্য বিয়ে, পুষ্টিতে ঘাটতি, বন্ধ্যাত্বা দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে দেখা দিয়েছে নানা রোগ।

নদী ভাঙ্গ তীব্র আকার ধারন করায় ভূমিহীনদের সংখ্যা বাড়ছে। গ্রামের মানুষ শহর মুখি হওয়ার কারনে জনসংখ্যা বাড়ছে। আগে তিন চার রুম নিয়ে মানুষ বসবাস করতো করোনার পরে এখন এক রুমের মধ্যে সকলে থাকছে ।

একটি বাথরুম ও পায়খানা তিন চারশত মানুষ ব্যবহার করছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াছে। চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। লবণাক্ততা দেখা দিয়েছে নদীর পানিতে। এই পানি ব্যবহারে শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সভয় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে ঠিক। যারা প্রভাব কৃষির উপর পরেছে। কিন্তু প্রতিকার দেখা যাচ্ছে না।

কৃষি পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন কৃষকরা। অনেকের ধানি জমি বাড়ি ঘর নদী ভাঙ্গনে বিলিয়ন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে এক শ্রেণীর কৃষক অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। আমাদের বরাদ্দ আছে কাজকরার জন্য সরকারের অর্থ রয়েছে। কিন্তু সঠিক ব্যবহার না করায় তা আবার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অব্যবস্থাপনা যতটুকু আছে তা এখনি শক্ত হাতে ধরতে হবে। সরকার যে ভাবে আগাচ্ছে তাতে করে সকলের সহযোগিতায় পতিকার করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন মানবাধিকার লঙ্ঘন সকলেই করছে। তার মধ্য থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের দেখা দেখি অন্যেরাও করবে। যিনি উপকার ভোগী তাকে সবকিছু গুছিয়ে দিতে হবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের মোকাবেলা না করা হলে আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হবে। এমনিতেই এর প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলে দেখা দিয়েছে। মোকাবেলায় সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও