তিন প্রতিবন্ধী মেয়ে নিয়ে বিপাকে বাবা-মা

ডিসেম্বর ১১ ২০২২, ২৩:২০

ভোলা প্রতিনিধি ‍॥ ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমপুর গ্রামের দিনমজুর আবু তাহের। শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তার ঘরে চারটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনই প্রতিবন্ধী।

তারা হলেন তাসলিমা (২৫), আকলিমা (২৩) ও সোনিয়া (২১)। তারা সবাই সুস্থ-সবলভাবেই জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু জন্মের পর ১৫ বছর পার হতেই একে একে তিন বোন প্রতিবন্ধী হয়ে যান। বর্তমানে তাদের ঘরে আটকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বাবা-মা।এই তিন বোন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। হাঁটতেও পারেন না। হাঁটতে গেলেই পড়ে যান। উদ্ভট আচরণ করেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। এই তিন সন্তানকে নিয়ে বুকফাটা কষ্ট চেপে দিন পার করছেন দিনমজুর আবু তাহের ও তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম।

পরিবারটির একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি আবু তাহের। দিনমজুর আবু তাহেরেরও বয়স পঞ্চাশের ওপরে। বয়সের ভারে এখন ঠিকমতো কাজও করতে পারছেন না। তাই সংসারের খরচ জোগাতেই কষ্ট হচ্ছে তার। প্রতিবন্ধী তিন মেয়ের চিকিৎসা করানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই পরিবারটির। দরিদ্র পরিবারে বিবাহযোগ্য এমন প্রতিবন্ধী তিন মেয়েকে লালন-পালন করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন আবু তাহের ও মোর্শেদা দম্পতি।

মা মোর্শেদা বেগম জানান, তিন মেয়ের এমন করুণ পরিণতি হবে তা কখনো ভাবতেই পারিনি তিনি। তাদের সেবা করতে করতে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন এই তিনজনকে গোসল করানো, নিয়মিত খাওয়ানো, বাথরুমে আনা-নেওয়াসহ সব কিছুই একা সামলাতে হচ্ছে তাকে। তাদের নিয়ে এখন কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।

চরভূতা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জানান, আবু তাহেরের তিন মেয়েই প্রতিবন্ধী। এটি আসলেই পরিবারটির জন্য খুব বেদনাদায়ক। তবে তিনজনের নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তারা কিছু সহযোগিতা পাচ্ছে।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. মহসিন খান জানান, একই পরিবারে একই সমস্যায় তিনজন প্রতিবন্ধী হওয়ার বিষয়টি হরমোনজনিত সমস্যার কারণে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞ হরমোন চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও