ববিতে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ১৫, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
জুলাই ১৯ ২০২৬, ২১:৪৯
ববি প্রতিনিধি, হৃদয় কুমার ॥
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নভোথিয়েটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আবু উবাইদা এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবন। এছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ বাংলা, লোকপ্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), হিসাববিজ্ঞান এবং ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পেজে গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনার কথা বলে আবু উবাইদা ও আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটার এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বা বাধা দিতে এগিয়ে আসা লোকপ্রশাসন, কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও আহত হন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং লাঠি, রড, পাইপ ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ কয়েকজন নেতা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় গণিত বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবন বলেন, “হঠাৎ করেই কয়েকজন আমাকে ঘিরে মারধর শুরু করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, “এখনও আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “উভয় পক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








































