বিশেষ অঙ্গ চেপে ধরে চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর, ভিডিও ভাইরাল
জুলাই ০৫ ২০২৬, ১৬:৪৩
বরিশাল ॥ বরিশাল নগরীর একটি হাউজিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দুটি চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
লাঞ্ছিত ব্যক্তি হচ্ছেন অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার। হামলাকারী হচ্ছেন বরিশাল নগরী কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান লিটু।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, শনিবার (৪জুলাই) দুপুরে আকস্মিকভাবে ৩-৪ জন নিয়ে লিটু তার নগরীর হোটেল আলী সংলগ্ন এলাকার অফিসে হানা দেন। এ সময় অফিসে থাকা অন্যান্য স্টাফদের তার কক্ষ থেকে বের করে দরজা আটকে দেন। কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই লিটু তার বিশেষ অঙ্গে হাত দিয়ে চেপে ধরেন এই সময় তিনি ডাক চিৎকার দিলে তার অন্যান্য স্টাফরা দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। তারা ভিতরে ঢুকে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও ভয় ভীতি দেখানো হয়।
এ সময় স্টাফরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে শটকে পড়েন। এরপর লিটু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দুটি চেকে তার স্বাক্ষর নেন একই সাথে স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর আদায় করেন। চেকে কোন টাকার অংক বসানো ছিল না।
তিনি আরো বলেন, এ সময় লিটুকে বারবার নিবৃত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেন।
লিটু তার অফিস ত্যাগ করার পর তিনি বিভিন্ন মিডিয়ার অফিসে গিয়ে ধরনা দেন এ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। এরপর অফিসের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বের করে তা তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন। এ বিষয়টি দেখে বিভিন্ন মিডিয়াকর্মী কন্টেন্টক্রিয়েটর তার কাছ থেকে ওই ভিডিও ক্লিপস নিয়ে তারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিলে তা ভাইরাল হয়।
এদিকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, আজিজ এর কাছে তার পাওনা রয়েছে ৫০ লাখ টাকার উপরে। এ টাকা নিয়ে বছরে পর বছর টালবাহানা করে আছেন তিনি। এ নিয়ে একাধিক সালিশি বৈঠক হলেও আজিজ একটি টাকাও তাকে দেয়নি। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়া থেকে তিনি বহু লোকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
৫ ই আগস্ট পরবর্তী তাকে বারবার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি সেই টাকা আর ফেরত দেননি। প্রতিবারই তার একটি জবাব হাতে টাকা আসলে ফেরত দেব। এই টাকা নিয়ে আমার রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে।
কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আমি তার অফিসে গিয়ে প্রথমে নরম সুরে টাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চাই। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে গরিমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি তাকে লাঞ্ছিত করেছি তা মিথ্যা নয়।
লিটু বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিসি ক্যামেরার যে ফুটেজটি ঘুরপাক খাচ্ছে সেটি ভালো করে দেখেন সেখানে তার পক্ষে কেউ কিছু লিখেছে কিনা। আমার অন্যায় হয়েছে তার অফিসে গিয়ে এ ধরনের আচরণ করা। কিন্তু ভূমিদস্যু ও প্রতারক আজিজের খপ্পরে পড়ে অগণিত মানুষ লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন। এখন তারাও সোচ্চার হচ্ছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে লিটু বলেন, তিনি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা একটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করেছেন বিষয়টি সত্য নয়। আমি একজন সাধারণ জনগণ মাত্র।
টাকা পাওয়ার বিষয়ে আব্দুল আজিজ বলেন, সে টাকা পাবে তা মিথ্যা নয়। এ বিষয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে টাকা আদায় করার চেষ্টা চালিয়েছেন। আমি আইনের কাছে এর বিচার চাইবো।
এ ব্যাপারে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন রেজা খান বলেন, যাকে যুবদলের সাথে সম্পৃক্ত দেখানো হয়েছে। যুবদলের কোন কর্মকাণ্ডের সাথে কোন ইউনিটের সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সাথেও সে জড়িত না। একটি সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হলে আগে জানতে হবে। কিন্তু যারা তাকে যুবদল সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তের কথা বলেছেন আসলে এটা ঠিক না। যুবদল সভাপতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন এ ব্যাপারে কেউ কোন প্রমাণ দিতে পারলে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপর আব্দুল আজিজ তার নিকট গিয়ে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আজ রবিবার আদালতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন। ওই মামলায় তাকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান।
ওসি বলেন, এখন পর্যন্ত মামলার নথি আমার হাতে আসেনি। আদালত থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে সেভাবেই বিষয়টি দেখা হবে।








































