রমজান ঘিরে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী
ফেব্রুয়ারি ১৯ ২০২৬, ০২:০৫
0-4608x2602-0-0#
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের ঠিক আগে ক্রেতাদের মধ্যে ছোলা, মসুর ডাল ও চিনি কেনার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার সূত্রে জানা যায়, ছোলা ও মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা এবং মসুর ডাল ৯৫ টাকা কেজিতে। আগের মতো ৯৫ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনি এখন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুদি সামগ্রীর পাশাপাশি শসা ও বেগুনের মতো সবজি-পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। শসা ও বেগুনের কেজিতে দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, মৌসুম না হওয়ায় এসব পণ্যের সরবরাহ সীমিত এবং এর ফলে দাম বেড়েছে।
রমজান মাসে ইফতার ও সেহেরির জন্য আমিষের চাহিদা বাড়ায় মুরগির দামও ত্বরান্বিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রতি ২০ টাকা, সোনালি মুরগির কেজি প্রতি ৪০ টাকা, আর দেশি মুরগির কেজি প্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতাদের জন্য মুরগি কেনা এখন আগে চেয়ে অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
খেজুরের বাজারে সামান্য স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। শুল্ক কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, ফলে আজওয়া এবং মরিয়ম জাতের খেজুরের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া দাব্বাস ও বড়ই জাতের খেজুরে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর পেছনে সরবরাহ সীমিততা এবং রমজান মাসের উচ্চ চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফলমূলের বাজারেও দাম বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আপেল, কমলা এবং মাল্টার দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাড়তি পরিবহন ব্যয় এবং রমজান মাসে চাহিদার চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে।
রমজান উপলক্ষে ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাজারে ক্রেতাদের চাপও বেড়ে গেছে। মুদি দোকান, সবজি বিপণী ও মুরগির বাজারে ক্রেতারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রমজান মাসে এমন ঊর্ধ্বমুখী দাম সাধারণ প্রবণতা হিসেবে দেখা যায়।
বাজার সূত্র জানায়, লেবুর দাম সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবুর মান ও আকার অনুযায়ী প্রতি হালি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য এটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম না হওয়ায় সরবরাহ সীমিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুদি পণ্যের পাশাপাশি ডালের চাহিদাও রমজান মাসে বেড়ে যায়। ছোলা ও মসুর ডাল ছাড়াও অন্যান্য ডালের দামও সামান্য বেড়েছে। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের অনুপাতের কারণে ডালের দাম এখন আগের তুলনায় ৫-১০ টাকা বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামান্য স্থিতিশীল মৌসুম হলেও রমজানের চাহিদা থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
সবজি বাজারে শসা ও বেগুন ছাড়াও আলু, পটল, কাকরোলের মতো পণ্যের দামও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বৃদ্ধি হয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন খরচ ও মৌসুমের প্রভাব দাম বৃদ্ধির মূল কারণ।
মুরগির বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম সাময়িকভাবে আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষত দেশি মুরগি, যা রমজান মাসে ইফতার ও সেহেরিতে বেশি চাহিদাসম্পন্ন, তার কেজি প্রতি দাম ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগিও ক্রেতাদের জন্য আগের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
খেজুরের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও, বিশেষ ধরনের খেজুরের কেজি প্রতি দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আজওয়া ও মরিয়ম জাতের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, দাব্বাস ও বড়ই জাতের খেজুরের কেজি প্রতি দাম ৫০-১০০ টাকা বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ সীমিত ও রমজান মাসে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ফলমূলের ক্ষেত্রে আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। ক্রেতারা এখন এসব পণ্য কিনতে আগের তুলনায় বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
মুদি, সবজি, মুরগি ও ফলমূলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা এখন হিসাব করে কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবারের খাবার, ইফতার ও সেহেরি আয়োজনের জন্য ক্রেতাদের অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রমজান মাসে এমন পরিস্থিতি সাধারণভাবে ঘটে এবং দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার জন্য সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য দরকার।
ক্রেতারা জানান, বাজারে দাম বৃদ্ধি হলেও রমজান মাসে দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য তাদের বিকল্প কম। তারা বলছেন, একদিকে দাম বৃদ্ধি আবার অন্যদিকে সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া—উভয় পরিস্থিতি মিলিয়ে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, রমজান মাসের জন্য ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজার স্থিতিশীল করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় দাম সাময়িকভাবে কমানো কঠিন।
মোটের উপর, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। লেবু, ডাল, চিনি, শসা-বেগুন, মুরগি এবং ফলমূল—সবই দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের পক্ষে এটি নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, তবে বিক্রেতাদের মতে মৌসুম না হওয়া, সরবরাহ সীমিত এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এভাবে রমজান মাসের বাজার চিত্র ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষও প্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারে।









































