মৃত্যুর ১৪ বছর পর ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন
জুলাই ২৮ ২০২৫, ১৯:৪০
পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের কাউখালীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম ও হত্যার শিকার ব্যবসায়ী নাজমুল হক মুরাদের ডিএনএ টেস্টের জন্য ১৪ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলার পারসাতুরিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলনের পর ডিএনএ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি কার্যালয় থেকে অনুরোধের প্রেক্ষিতে পিরোজপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান গত মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) তার মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গুম কমিশনের সদস্য মানবাধিকার কর্মী নূর খান, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল মোল্লা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসতিয়াক আহমেদ, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান, মামলার বাদী মুরাদের ভাই মিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন খান মাসুদ হত্যা মামলার আসামি কাউখালীর ব্যবসায়ী মুরাদ, রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠী গ্রামের মিজান জোমাদ্দার ও ফোরকানকে র্যাব পরিচয়ে ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার উত্তরা থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপরে তাদের কোনো সন্ধান পায়নি তাদের পরিবার। ১০ দিন পর ২৭ এপ্রিল ২০১১ ঢাকার তুরাগ তীরে বালির নিচ থেকে বস্তাবন্দি ৩ যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তিনজনের পরিবার তাদের মরদেহ শনাক্ত করে নিজ নিজ বাড়িতে দাফন করেন।
কাউখালীতে আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন খান মাসুদ হত্যা মামলায় দুজন আসামি নিহত হওয়ায় বাদী নিহতের ডিএনএ টেস্টের আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকার সিএমএম আদালতের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট একেএম এনামুল হক ২০১১ সালের জুন মাসে মুরাদ ও মিজানের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দেন।
২০১১ সালের ৪ জুলাই কাউখালীর পারসাতুরিয়া গ্রামে নাজমুল হক মুরাদের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে মরদেহের দাঁতসহ বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়। পরে ডিএনএ টেস্টে কাউখালীতে দাফন দেওয়া লাশ মুরাদের নয় বলে জানিয়েছিলেন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।
মামলায় মিজান ও মুরাদকে জীবিত দেখিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে ছিল।
কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছরে মুরাদের ছোট ভাই নাজমুল হক মুরাদ গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির কাছে সঠিক সন্ধান এবং তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। পরে গত ২৮ এপ্রিল গুম সংক্রান্ত কমিশনের দুজন সদস্য কাউখালীতে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘটনার বিবরণ শুনে মুরাদের মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন।








































