নিহত জামালের লাশ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার !
জুলাই ২৩ ২০২৫, ১৮:৪২
ভোলা : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের ব্রুনাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জামাল হোসেন (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ভোলা জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চর জাহাঙ্গালিয়া গ্রামের হাদিস মিয়ার ছেলে।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নিহতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। মা-বাবা ও বোনেরা মিলে বিলাপ দিচ্ছেন। তিন ভাই আর দুই বোনের মধ্যে জামাল ছিলেন সবার ছোট। আদরের ভাইকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন ছোট বোন।
এর আগে, গতকাল দুপুরে ব্রুনাইয়ের চীনারুপাই শহরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা যান জামাল। তার সহকর্মী অপর এক বাঙালি বিকেলে ফোন করে জামালের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানালে সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারের দুঃখ গোছাতে ১২ বছর আগে প্রবাস জীবনে নাম লেখান জামাল। কাজ নেন ব্রুনাইয়ের চীনারুপাই শহরের একটি নির্মাণ প্রকল্পের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে। এরপর কয়েক দফায় বাড়িতে আসলেও সবশেষ ৬ বছর হয়েছে ছুটিজনিত কারণে দেশে আসতে পারেননি তিনি। তার এক সহকর্মী ছুটিতে দেশে এসেছেন, তিনি ফিরে গেলেই ছুটিতে দেশে ফিরার কথা ছিল জামালের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জামাল হয়তো ফিরবেন, তবে জীবিত নয়, মৃত হয়ে।
জামালের বোন কুলসুম বেগম আহাজারি করে জানান, আগস্টের ৩ তারিখে জামালের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে আসবেন বলে আমাদের সকলের জন্য বিদেশে কেনাকাটা করেছেন। ভিডিও কলে আমাদের সব দেখিয়ে বলেছেন, ‘বোন, ৩ তারিখে দেশে ফিরবো, তোদের জন্য অনেক কিছু কিনেছি।’ এবার দেশে ফিরে তার বিয়ে করার কথা ছিল। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচবো, আমাদের ভাইকে চিরতরে হারিয়ে ফেললাম। এখন আমাদের ভাইকে আমরা দ্রুত ফেরত চাচ্ছি।
জামালের মা নিরুতাজ বেগম ছেলের ছবি হাতে আহাজারি করে জানান, ‘আমার ছেলে প্রতি মাসেই বাড়ি আসতে চাইতো। কিন্তু ছুটি পায়নি বলে দেশে আসতে পারেনি। আমার বুকের ধন আমাকে রেখে চলে গেছে। আমার ছেলের লাশটি যেকোনোভাবে ফেরত চাই।’
জামালের ভগ্নিপতি সেকান্তর মিয়া জানান, মারা যাওয়ার পর লাশ ময়নাতদন্ত করে হিমাগারে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে জামালের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাবেন বলে তারা জানিয়েছেন। তারপরও আমরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাশ ফেরত পেতে পারি।
প্রতিবেশীরা জানান, জামাল একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ ছিলেন। যেখানে তিনি কাজ করতেন সেই মালিকও বাঙালি ছিলেন। জামাল খুব পরিশ্রমী ও সৎ হওয়ায় তাকে ছুটি দিতে চাইতেন না। তার এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামের সকলেই বাকরুদ্ধ আর মুখে মুখে জামালের নাম।
এদিকে জামালের এমন মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ ওই গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নির্ভাক ছাউনিতে শেষ বারের মতো জামালকে একজন দেখতে পরিবারের আহাজারি যেন থামছেই না।









































