বর্ষায় জমে ওঠে চাক জালের হাট
জুলাই ০৫ ২০২৪, ২১:৫১
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বালুর মাঠে সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসে চাক জালের হাট। বর্ষার এই সময়ে বেড়েছে বৃষ্টিপাত। ফলে ধানক্ষেতে বেড়েছে পানি। বেড়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন মাছের আনাগোনা। ফলে উপকূলীয় এ এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে চাক জালের কেনাবেচায় হিড়িক পড়েছে।
চিকন সুতা আর বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি চাকার মতো ঘোরানো যায় বলে এর নাম চাক জাল। দেখতে অনেকটা ‘বুচনা’ চাঁইয়ের মতো। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘চাক জাল’ নামে পরিচিত।
চাক জাল কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত চিংড়ি মাছ ধরার জন্য কৃষক ও মৌসুমি জেলেরা এই জাল কিনে থাকেন। বৃষ্টির এই সময় চাক জালের চাহিদাও বেশি থাকে। উপজেলার শতাধিক পরিবার বর্ষা মৌসুমে চাক জাল তৈরি করে বাড়তি আয় করছে। অবসরে নারী-পুরুষরা ঘরে বসে চাক জাল তৈরি করেন। একজন প্রতিদিন দুই-তিনটি জাল তৈরি করতে পারেন। জাল তৈরির কাঁচামালও সহজে পাওয়া যায়। তাই বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাক জাল।
উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রাম থেকে বিক্রি করতে আসা কামাল জানান, প্রতিদিন তারা কৃষিকাজের অবসরে চাক জাল বোনেন। বর্ষা মৌসুমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ঘরে বসে নারীরাও চাক জাল তৈরি করেন। এ বছর বড় চাক জাল ৪৫০-৫০০ টাকা এবং ছোট ৩৫০-৪০০ টাকা। খরচ বাদে প্রতিটিতে ১০০-১২০ টাকা লাভ হয়। আমাদের এই চাক জাল দিয়ে শুধু চিংড়ি মাছ ধরা হয়। বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের ব্যবহার কমে যাওয়ায় জেলেরা চাক জালের দিকে ঝুঁকছেন।
চাক জাল কিনতে আসা মাছুয়া গ্রামের জেলে খোকন মিয়া বলেন, চাক জাল দিয়ে শুধু চিংড়ি ধরা হয়। বর্ষা মৌসুমে ধানক্ষেত ও ছোট নালায় প্রচুর চিংড়ি পাওয়া যায়। চিংড়ি মাছ ধরার জন্য চাক জালের চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর চাক জাল কিনতে হাটে আসি।








































