সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনার চর
নভেম্বর ০৭ ২০২৩, ১৮:১৫
পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ বঙ্গোপসাগরের বুক চিড়ে গড়ে ওঠা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনার চর। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষে এই চরের অবস্থান। সমুদ্রের জলরাশি, লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি আর পাখিদের অবাধ বিচরণ দেখতে প্রতি বছর হাজারও পর্যটক ভিড় করেন দ্বীপটিতে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে দেশের পর্যটন শিল্পে যোগ হবে নতুন মাত্রা।
বিদেশ থেকে এখানে ঘুরতে আসবেন পর্যটকরা। এতে করে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বদক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মানচিত্রে অবস্থান সোনার চর, জাহাজমারা ও হেয়ার দ্বীপের। এই তিন দ্বীপকে একসঙ্গে ‘সোনার চর’ পর্যটন কেন্দ্র বলা হয়। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এই দ্বীপগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে দেশের পর্যটন শিল্পে যোগ হবে নতুন মাত্রা।
বিদেশ থেকে এখানে ঘুরতে আসবেন পর্যটকরা। দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণের ওই দ্বীপে যেতে হয় ট্রলারে করে। চরটিতে রয়েছে ২০ হাজার ২৬ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি; সঙ্গে রয়েছে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। কুয়াকাটার মতো সোনার চরের সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়েও সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। এ ছাড়া, দ্বীপটিতে দেখা মিলবে হরিণ, বানর, বুনো মহিষসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর।
দ্বীপের সৈকতে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার বিচরণ। বালুর গভীরে নিজেদের তৈরি সুড়ঙ্গে দলবেঁধে চলাচল করে। এখানকার ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনের মতোই নয়াভিরাম। বনভূমির মধ্যে ছড়িয়ে আছে শতাধিক ছোট-বড় খাল। ছোট নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে এসব খালে ভেসে বেড়ালে দেখা যায় বিচিত্র সব পশু-পাখি।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন মৌসুমে অল্প পর্যটক আসলেও সোনার চরে ভিড় জমে শীতকালে। তবে যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান জানান, সোনার চর, হেয়ার দ্বীপ ও জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজর রয়েছে। এই পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশে তিনি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের দ্বীপ তিনটিকে ইকো ট্যুরিজমের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে।
হেয়ার দ্বীপে কিছু অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। যাতে পর্যটকরা এখানে এসে অবকাশ যাপন করতে পারেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের জানান, বিশ্ব পর্যটনে অন্যতম স্থানে দাঁড় করাতে সমুদ্র ভ্রমণ কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাই সেন্টমার্ন্টিন, কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও সুন্দরবন হয়ে সোনার চর ভ্রমণের জন্য আধুনিক নৌযান ও বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের সমুদ্র কেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মাস্টার প্লানের কাজ চলমান রয়েছে। ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে জেগে ওঠে সোনার চর। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে এটি বন্যপ্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা করে সরকার।









































