কবে শেষ হবে পিরোজপুর হাসপাতালের নির্মাণ কাজ

নভেম্বর ০৭ ২০২৩, ১৮:১১

পিরোজপুর প্রতিনিধি ‍॥ তিন দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি পিরোজপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। বর্তমান ১০০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে প্রায়ই ভর্তি থাকে দুই শতাধিক রোগী। ফলে একদিকে যেমন কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না চিকিৎসা প্রত্যাশীরা, তেমনি যথাযথ সেবা দিতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন কর্তৃপক্ষ।

পিরোজপুর জেলায় উন্নীত হয় ১৯৮৬ সালে। তখন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ৩১ শয্যা থাকলেও ৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মিত হয় ১৯৯৭ সালে। ২০০৫ সালে এসে সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। জেলার জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

তাছাড়া আশপাশের জেলার লোকজনও চিকিৎসা নিতে আসেন এ হাসপাতালে। কখনও কখনও এ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি। রোগীতে ভরে যায় ওয়ার্ডের ফ্লোর আর হাসপাতালের বারান্দাও। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না চিকিৎসা প্রত্যাশীরা। সদর উপজেলার কলা-খালি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল সাত্তার বলেন, আমি তিন দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। কিন্তু বিছানা না পেয়ে ঠাণ্ডার ভিতরে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে।

ফলে আমি আগের থেকে বেশি সমস্যায় ভুগছি। আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং রোগীদের চাপ সামলাতে ২০১৭ সালে ১০০ শয্যার এ হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা দেয়া হয়। টেন্ডারের পরে শুরু হয় সাত তলা ভবনের নির্মাণ কাজ। ২০২০ এর জুনে নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও করোনার কারণে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়।

এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৭ম তলা পর্যন্ত সকল কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইলেকট্রিক্যাল ও স্যানেটারি কাজ শুরুই করা হয়নি। গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, ইতোমধ্যে এ ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের প্রস্তাব যায় সংশ্লিষ্ট দফতরে।

দাফতরিক কারণে আবারও থমকে যায় নির্মাণ কাজ। টেন্ডার ও ঠিকাদার নিয়োগের জন্য চলতে থাকে প্রক্রিয়া। অতি সম্প্রতি টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এ মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হবে এবং আগামী বছর জুন মাসের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারবো।

চিকিৎসা সেবার ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকী বলেন, জায়গা সংকটের কারণে যথাযথ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবন চালু হলে এ দুরবস্থা কেটে গিয়ে সেবার মান আরও ভালো হবে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হাসপাতালটি চালু হলে এ এলাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোর কয়েক লাখ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবার আওতায় আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও