মাহবুবুল আলম নাঈমের বাড়ি কলাপাড়া পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া শেষ করেই আমেরিকার একটি সংস্থায় ঢাকায় কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। তাঁর সংসারে একটি ছেলে রয়েছে। এই চাকরিতে ভালোভাবেই চলছিল তাঁর পরিবার। ২০১৬ সালে চাকরি থেকে ছাঁটাই হন নাঈম। তাতে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। উপায়ান্তর না দেখে এক পর্যায়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন তিনি। চাকরির সময়ে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার সুবাদে কোয়েলের খামারও দেখেন। তখন থেকে কোয়েল পালনের শখ হয় তাঁর।২০১৭ সালের শুরুতে ৩০০ কোয়েলের বাচ্চা কেনেন। তাতে ভালোই লাভ হয়। পরবর্তী সময়ে এক হাজার কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে বাণিজ্যিকভাবে পালন শুরু করেন। খামার শুরুর পরই কোয়েল পালনে বিপর্যয় ঘটে। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বেশ কিছু পাখি মারা যায়। তবুও হাল ছাড়েননি নাঈম। কঠোর পরিশ্রম করে খামারটি লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যান।

সরেজমিন দেখা যায়, নাঈমের খামারটির নাম ‘নূরজাহান লাইভ স্টক হ্যাচারি অ্যান্ড ফার্ম’। খামারটি তাঁর বাসার পাশেই রয়েছে। সেখানে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে। শীত মৌসুমে ছয় থেকে সাত হাজার পাখি থাকে তাঁর খামারে। নাঈম নিজে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা খামারটি দেখভাল করছেন। এ ছাড়া আরও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। খামারটিতে প্রতিটি ডিম প্রাইকারি বিক্রি হয় ৩ টাকা এবং খুচরা ৪ টাকা। খামারের সামনে রয়েছে তাঁর নিজস্ব একটি দোকান এবং সেখানে কোয়েলের ডিম ও কোয়েল পাখি বিক্রি হয়।

মাহবুবুল আলম নাঈম বলেন, বর্তমানে খামারে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার ডিম হয়। স্থানীয় অনেক লোকজন আমার খামার দেখতে এসেছেন এবং তাদের মধ্যে একটা উৎসাহ দেখা গেছে। আমি তাদের কোয়েলের খামার করার জন্য উৎসাহ এবং পরামর্শ দিয়েছি। আমার খামার দেখে ইতোমধ্যে বেশ কয়েক বেকার যুবক তাদের নিজেদের উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে কোয়েল পাখি পালন শুরু করেছেন। এখানেই আমার বড় সফলতা।

মাহবুবুল আলম বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। তখন থেকে নানাবাড়িতে থাকতাম। নানি আদর করে বড় করেছেন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা স্বরূপ খামারের নাম ‘নূরজাহান লাইভ স্টক হ্যাচারি অ্যান্ড ফার্ম’ দিয়েছি। স্থানীয় মো. নেছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, নাঈম একজন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর সফলতা আমাদের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জুগিয়েছে। তাঁর খামার থেকে কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে আমিও ক্ষুদ্র পরিসরে খামার শুরু করেছি এবং সফল হবো বলে আমার আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, কোয়েল পাখির খামার লাভজনক ব্যবসা। একে তো অল্প দিনের মধ্যে ডিম দেয় এবং মাংসও খাওয়া যায়। কোয়েল পাখি পালনে কলাপাড়ার মাহবুবুল আলম নাইম সফল হয়েছেন এবং তাঁকে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।