বরগুনায় ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ: ২ শিশু অপরাধীকে ১০ বছর আটকাদেশ

আগস্ট ২৯ ২০২৩, ১৫:৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: স্কুলছাত্রী কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই শিশু অপরাধীকে ১০ বছর করে আটকাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ মো. মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু অপরাধীরা হলো- মোকলেছুর রহমান (১৫) ও বাবু (১৪)। রায় ঘোষণার সময় মোকলেছুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিল। বাবু পলাতক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। জানা যায়, একই ঠিকানার স্কুলছাত্রী ওই ট্রাইব্যুনালে ২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর বাদী হয়ে ওই দুই শিশু অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

ওই ঘটনার সময় বাদী বেতাগীর বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে কাউনিয়া এমদাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ওই আসামিরা ভিকটিমকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। স্কুলছাত্রী তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি হয়নি। এতে শিশু অপরাধীরা প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

স্কুলছাত্রীর বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ঘরে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে অভিযুক্ত দুজনে ধর্ষণ করে। বাধা দিলে স্কুলছাত্রীর ঠোঁটে বুকে ও লজ্জা স্থানে রক্তাক্ত জখম করে।

স্কুলছাত্রী চিৎকার দিলে কতিপয় সাক্ষী এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। বেতাগী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এইচএম জসিম উদ্দিন ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করেন।

শিশু অপরাধীদের আইনজীবী মো. হুমায়ূন কবির বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ১৭-১৮ বছরের শিশুরা ধর্ষণসহ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর। তিনি আরও বলেন, আইনে শাস্তি কম হওয়ায় এক শ্রেণির সন্ত্রাসীরা শিশুদের জঘন্য অপরাধে যুক্ত করে। শাস্তি বেশি হলে অপরাধ অনেকটাই কমে যেত।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া