ফের রাতের আঁধারে চৌমাথা লেকটিতে বসছে অবৈধ দোকান
অক্টোবর ১১ ২০২৬, ০২:৪৮
বরিশাল নগরীর দর্শনীয় ও বিনোদনের স্থান চৌমাথা লেক। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লেকটির সৌন্দর্য করা হলেও। সেই চৌমাথা লেকটি এখন নগরবাসীর গলার কাটা হয়ে উঠার পথে।
সৌন্দজন্য বর্ধন স্থানটিতে চলছে ভাসমান দোকান বসানোর প্রতিযোগিতা। গড়ে তুলছে রকমারি খাবার ও মনোহারী দোকান বাণিজ্যিক। দোকানগুলোতে গত ১০ বছর ধরে চলছে নিরবচ্ছিন্ন অবৈধ বিদ্যুৎ সরবরাহ।
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বরিশাল মহানগরীর সৌন্দর্য বর্ধনকৃত নবগ্রাম রোড চৌমাথা লেকটি নগরবাসীর গলার কাটা হয়ে উঠেছিল।
তবে বর্তমান সরকার নিসারাদেশের ন্যায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণে উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকলেও নগরীর চৌমাথা এলাকায় দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা সিটি মার্কেটের সামনে রাতের আঁধারে সড়ক দখল করে বসানো হয়েছে অবৈধ দোকানপাট। এতে একদিকে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে যেমন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের দোহাই দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে মহা-সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে প্রায় এক ডজন ফুটপাত ব্যবসায়ী তাদের দোকানগুলো বসিয়ে রেখে যায়। খবর পেয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ শাখা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ব্যবসায়ীদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্ব-উদ্যোগে এসব স্থাপনা অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে সিটি মার্কেটের সামনে দোকানগুলো সারিবদ্ধভাবেই রাখা রয়েছে, যদিও দোকানগুলো বন্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিসিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ মদদে রাতের আঁধারে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
এদিকে বিসিসির অনুমতি নিয়েই তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ‘জলিল ফল ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী মো. জলিল হাওলাদার ও ‘তাকরিম ফল ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বলেন, “বিসিসির পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপ ও লোগো দিয়ে এই দোকানগুলো তৈরি করা হয়েছিল, যা তাদের কাগজপত্রেও উল্লেখ রয়েছে। আমাদের টোকেনও দেওয়া হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি না থাকলে আমরা গাড়িতে বিসিসির লোগো ব্যবহার করতাম কীভাবে? সাবেক প্রশাসক স্যারের সময়ই বৈধভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল।”
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, “শুক্রবার বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং ব্যবসায়ীদের অতি দ্রুত সড়ক থেকে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দখলদাররা স্বেচ্ছায় সরে না গেলে রোববার (১১ অক্টোবর) বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নির্দেশে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।








































