চিকিৎসা খরচে অর্থাভাবে চিন্তিত দম্পতি
নভেম্বর ২৬ ২০২৫, ২১:৩৮
ডেস্ক প্রতিবেদক ॥ বরিশালের সোহেল-লামিয়া দম্পতি, বিয়ের পাঁচ বছর অপেক্ষার পর। আল্লাহ’র রহমতে তাদের দম্পত জীবনে, স্ত্রী লামিয়ার কোলজুড়ে এক সঙ্গে জন্ম নিয়েছিল পাঁচ সন্তান।
তবে এই খবরটি শুধু সোহেল-লামিয়ার পরিবারেই নয়, এই আনন্দের ঢেউ তুলেছিল গোটা বরিশালজুড়ে। কিন্তু তাদের জন্মের পরের বাস্তবতা আরও গভীর এবং মানবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবার সামান্য আয় দিয়ে চলছে না পাঁচ সন্তানের ভরণ-পোষণ। এমনকি সঠিক পরিচর্যার অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে পাঁচ সন্তান। পরে তাদের পাঁচ জনকেই ভর্তি করা হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে।
তবে বর্তমানে অর্থাভাবে সন্তানদের সঠিক চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত পরিবারটি। তাই সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত পেতেছেন অসহায় বাবা-মা।
চলতি বছরের ৬ অক্টোবর বরিশাল নগরীর ডায়াবেটিক হাসপাতালে কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে তিন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী লামিয়া আক্তার।
পাঁচ সন্তানের নাম রাখা হয়েছে- হাসান, হোসাইন, মোয়াছিন, হাবিবা ও উমামা। জন্মের পর প্রায় দেড় মাস তাদের শারীরিক অবস্থায় ভালোই ছিল। তবে শীত শুরুর পর থেকেই একে একে পাঁচজনই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে।
সর্বশেষ গত ২২ নভেম্বর তাদের পাঁচজনকেই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পাঁচ সন্তানের নানি শাহনাজ বেগম বলেন, ‘‘পাঁচ সন্তানকে তাদের মা এবং আমি ছাড়া লালন-পালনের আর কেউ নেই। কষ্ট করে হলেও ভালোভাবে যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু শীত শুরুর পর পরই নাতি-নাতনিরা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করে। একজন অসুস্থ হলে পরে দেখা যায় আরেকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে ওদের হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় মেটানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
পাঁচ শিশুর মা লামিয়া আক্তার বলেন, ‘‘একটি সন্তান লালন-পালন করাই কষ্টকর। সেখানে আল্লাহতায়ালা আমাদের পাঁচটি সন্তান দিয়েছেন। তাতে আমরা খুশি। কিন্তু ওদের পেছনে যে ব্যয় হচ্ছে তা আমার স্বামীর স্বল্প আয় দিয়ে মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এই শীতে ওদের গরম পোশাকের দরকার। প্রতিদিন ১০টির ওপরে ডায়াপার লাগে। এক কৌটা দুধ দুদিন যায় না। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়ানো ছাড়া উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। সরকারিভাবে বা হৃদয়বান ব্যক্তিদের আমার সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।’’
পাঁচ সন্তানের বাবা কালাইয়া ইউনিয়নের বাহেরচর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সোহেল হাওলাদার বলেন, ‘‘পাঁচ সন্তানের পেছনে বর্তমানে দৈনিক কমপক্ষে দুই হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। ওরা যত বড় হচ্ছে খরচ তত বাড়ছে। কিন্তু আমাদের পাশে দাঁড়াবার মতো কেউ নেই। অনেকে আসে, আশ্বাস দিয়ে যায় কিন্তু পরে আর খোঁজ নিচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। তবে সন্তান হওয়ার পর বরিশাল সমাজসেবা অফিস এবং জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ কিছু খচ্চর এবং একটি গাভি উপহার দিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির পর সরকারিভাবে তিনিই দুধ এবং কিছু ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সন্তানদের লালন-পালনের জন্য সমাজের বিত্তবাহনদের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় বাবা সোহেল হাওলাদার।’’
এদিকে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ সন্তানের অসুস্থতার খবর শুনে মঙ্গলবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ছুটে যান বরিশাল জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার ও সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ। তারা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল পরিচালকের সহযোগিতায় পাঁচ শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
‘ইভেন্ট-৮৪’ এর আহ্বায়ক বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, ‘‘আমি চেষ্টা করেছি আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার। বাচ্চাগুলো জন্মের পর ডায়াবেটিক হাসপাতালের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করেছি। পরে পাঁচ সন্তানকে একটি গাভি উপহার দিয়েছি। ভবিষ্যতেও যতটা সম্ভব আমরা ওদের পাশে থাকব।’’
অপরদিকে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ শিশুর চিকিৎসা সহায়তার জন্য আমরা বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তাছাড়া তাদের জন্য কিছু দুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যা দিয়ে ১৫ দিন চলে যাবে। তবে তাদের জন্য স্থায়ী সহযোগিতা দরকার।
সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা ওদের পাশে দাঁড়ালে পরিবারটি যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনি সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে সন্তানগুলো বেড়ে উঠতে পারবে।’’ কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতা পাঠাতে চাইলে ০১৭৮৩-৮১৬৯৮০ বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা সোহেল হাওলাদার।








































