বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি: বাকেরগঞ্জে HHH টেলিমেডিসিন অপারেটর প্রশিক্ষণ ব্যানারে তিন দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেন HHH টেলিমেডিসিন হিউম্যান হেলথ হেল্পলাইন নামের একটি সংস্থা।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর HHH টেলিমেডিসিন হিউম্যান হেলথ হেল্পলাইন নামের সংস্থাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ২০১৮ সালের একটি অনুমোদন দেখিয়ে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা প্রশিক্ষণের ট্রেনিং, সার্টিফিকেট দেয়া ও আকর্ষণীয় চাকুরির প্রলোভনে নামে ১৪ টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৫০ জন নারীকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
HHH টেলিমেডিসিন অপারেটর প্রশিক্ষণ এর ব্যানারে ইতিমধ্যে ১৪ টি ইউনিয়ন থেকে ৫০ জনকে ৯ হাজার টাকা করে বেতনের লোভ দেখিয়ে শুধুমাত্র ট্রেনিং এর জন্য জনপ্রতি ৬ হাজার ৫ শত টাকা করে ২৯ নভেম্বর টাকা উত্তলন করেন।
প্রত্যেক চাকুরি প্রার্থীকে নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রাহক সংগ্রহসহ নানা শর্তজুড়ে দেয় এই প্রতিষ্ঠানটি। বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম বিক্রি করে ডাক্তারি সার্টিফিকেটেরও প্রলোভন দেখায় তথাকথিত প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাগন।
টাকা নেওয়া হলেও চাকুরির নামে মূলত তাদের দিয়ে টেলিমেডিসিন এর দালালি করানোর চেষ্টা করা হয়। আকর্ষণীয় চাকুরির প্রলোভনে পড়ে টাকা দেওয়া বিভিন্ন বয়সের অর্ধ শতাধিক নারীদের কর্মের বাস্তবায়ন দায়িত্ব নেয় দারিয়াল ইউনিয়ন জনকল্যাণ সংস্থা ও পিপলস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (পিডিও) এনজিও। টেলিমেডিসিন কর্মকর্তাদের মন ভুলানো মিষ্টি কথায় প্রশিক্ষণে আসা নারীরা টাকা দিয়ে দেয়।
গত ২৭ নভেম্বর প্রথম দিন প্রশিক্ষণে আসা কয়েকজন ঐ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকুরি ও সার্টিফিকেট এর বিষয়ে তাদের প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে সাংবাদিকসহ উপজেলা প্রশাসনকে ঘটনাটি অবহিত করে।
ঐ দিন HHH টেলিমেডিসিন সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মার্কেটিং এর দায়িত্বে থাকা সেলিম রেজা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়।
উক্ত প্রশিক্ষণ পরিচালনার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন অনুমোদন কাগজপত্র ইউএনও কে দেখাতে পারেনি। প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণ ও চাকরির প্রলোভন দেখানোর কারন জানতে চাইলে তারা কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। তখন তাদেরকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল।
এবং বরিশাল সিভিল সার্জন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়। অথচ তারা ইউএনও’র নির্দেশ অমান্য করে প্রশিক্ষণ দেয়া ও প্রশিক্ষনার্থীদের থেকে ৬ হাজার টাকা করে গ্রহন করেন।
আজ ২৯ নভেম্বর এমন ঘটনার অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে পৌর অডিটোরিয়াম থেকে HHH টেলিমেডিসিন অপারেটর কর্মকর্তাদের উপজেলায় ইউএনও’র কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশিক্ষনার্থীদের ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উত্তোলনকৃত টাকা ফেরত দেয়া হয়।