‘বাঁচতে চায় অসহায় জাকির’
জুন ২৯ ২০২৫, ১৮:৩৮
এমন অবস্থায় দিশেহারা বরিশাল নগরীর ৬ নং ওয়ার্ড পলাশপুর ব্রিজ সংলগ্ন একরিম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপরীতে গগনগল্লি বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন জাকির। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় বর্তমানে পরিবারটি খুবই আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে তার। অসহায় ও নিরুপায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসাও করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে প্রায় অনাহারে তার পরিবারের বাকি সদস্যরা।
এমতাবস্থায় সমাজের বিত্তশালী ও দয়াবানরা যদি জাকিরের চিকিৎসার জন্য অর্থিক সহযোগিতা করেন, তাহলে জাকির সুস্থ জীবন ফিরে পাবে। দাঁড়াতে পারবে আবারও পরিবারের পাশে। তাতে তাকে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হবে না স্ত্রী ও সন্তানদের।
স্থানীয় রিয়াজ জানান, অসুস্থ জাকির অর্থের অভাবে হৃদযন্ত্রের জটিল রোগে আক্রান্ত এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির চিকিৎসায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অসুস্থ জাকিরের উন্নত চিকিৎসা ও হার্টের দুটি রিং বসাতে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মতো অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় তাদের পক্ষে তার চিকিৎসার জন্য এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
জাকির ও তার পরিবারের জীবনে হঠাৎ নেমে এসেছে এক কাল বৈশাখী। জাকির প্রথমে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে হাসপাতালে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে তার রিপোর্টে দেখা যায় জাকিরের হার্টের দুটি রিং ব্লক হয়েছে। যার চিকিৎসা করাতে প্রয়োজন অনেক অর্থ। কিন্তু জাকির দিনমজুর হওয়ার স্বত্বেও তার পক্ষে এই চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জাকির বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
সরেজমিনে তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, একটি রুমে শুয়ে আছেন জাকির। শরীর অনেকটা শুকিয়ে গেছে। ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। কথা বলতে গিয়ে বারবার হাঁপিয়ে উঠছিলেন।
জাকিরের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। জাকির প্রথমেই প্রতিবেদককে দেখে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাই, আমি বাঁচতে চাই। আমাকে আপনারা সহযোগিতা করেন। আমাকে বাঁচান আপনারা।’
জাকির আরো বলেন, ‘দিনমজুরের কাজের পাশাপাশি লঞ্চঘাট এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি টেবিল পেতে ফ্লেক্সিলোড করতেন। তাতে যে আয় হতো তা দিয়ে খেয়ে পরে ভালোই ছিলাম আমি। হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করায় হার্টের দুটি রিং ব্লক হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রায় এক বছর ধরে ঘরে বুকের ব্যথা ও যন্ত্রণায় দিন পার হচ্ছে আমার।’
জাকির বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা ও ঠিকমতো ওষুধ খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না আমার পক্ষে। জানি না কোন দিন যেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে দেখেন বিছানায় আমার মরদেহ পড়ে আছে।
চোখে পানি আর মুখে নেই হাসি সেই অবস্থায় কেঁদে কেঁদে জাকির বলেন, ‘আমি আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। আল্লাহর দয়ায় আপনারা আমাকে একটু সহযোগিতা করে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান। আমি আপনাদের মাঝে থাকতে চাই।’
ডাক্তার বলছেন, ‘হার্টের অপারেশন করাতে হবে এবং হার্টের দুটি রিং দ্রুত বসানো খুবই প্রয়োজন।’ তবে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় কোনো রকমে চলছিল প্রথম ধাপের চিকিৎসা। বর্তমানে অর্থের অভাবে বন্ধ তার পুরো চিকিৎসা।
চিকিৎসা সহায়তার জন্য জাকির সবার প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। আর্থিক সহায়তা পাঠাবার জন্য বিকাশ নম্বর: ০১৯৭৮৪৬৬৩৪৮ (পারসোনাল)। অথবা উল্লেখিত ঠিকানায় গিয়ে নিজ হাতে সাহায্য করতে পারেন।









































