শাক বিক্রি করেই চলে প্রতিবন্ধি মোস্তফার সংসার
জুন ২৬ ২০২৫, ১৫:৫৪
আরিফ হোসেন ॥ মানষিক প্রতিবন্ধি মোস্তফা খান (৬০)। বয়সের ভারে অসুস্থ তিনি। ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। এদিক-ওদিক থেকে কুড়িয়ে আনা শাক বিক্রি করে প্রায় আড়াই দুই যুগ ধরে চলছে তার সংসার। কখনো সকালে, কখনো বিকেলে বরিশাল নগরীর ফকির বাড়ি রোড়ের মাঝ খানে ত্রিমুখে রাস্তার পাশে বিভিন্ন শাক নিয়ে প্রতিদিনই বসতে দেখা যায় তাকে।
মোস্তফার কাছে আমার সংবাদের প্রতিবেদক জানতে চাইলেন কত দিন ধরে এখানে আপনি শাক বিক্রি করেন।
প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা বলেন আমি সদর রোড ও ফকির বাড়ি রোর্ড এলাকায় এরশাদের আমল থেকে (প্রায় দেড় যুগ) ধরে আমার গ্রামের বাড়ি বরিশালের সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ থেকে কুড়িয়ে আনা শাক বিক্রি করি। আর আমার শাক বিক্রি টাকার উপরে ভরসা করে সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা।
মোস্তফা খান বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চরআইচা গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ আদম আলী খানের ছেলে।
নগরীর ফকির বাড়ি রোর্ডের বাসিন্দা শাখাওয়াত আমার সংবাদকে বলেন, জীবনে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। প্রাত্যহিক কাজকর্ম ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় ব্যয় করতে হয় আমাদের। বিশেষ করে শহরের বসবাস করা চাকরি জীবিদের এই ব্যস্ততা আরও বেশি। শত ব্যস্ততার মাঝেও যে কাজে সময় ব্যয় করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না, সেটি হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার। এসব ব্যস্ত মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের শাক কেটে, ধুয়ে পুরো প্রস্তুত করে বিক্রি করার জন্য প্রতিদিনই সাজিয়ে রাখেন মোস্তাফা।
শাখাওয়াত আরো বলেন, আমার যখন যুবক বয়স সেই থেকে মোস্তাফা নামে শাক বিক্রি করা এই লোকটিকে দেখতে পাই। তবে তিনি মানষিক প্রতিবন্ধী। শাক বিক্রির পাশাপাশি মানুষের কাছে ৫ টাকা ভিক্ষা চাইতে দেখি তাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফার আনা শাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও টাটকা হওয়ায় ফকির বাড়ি রোর্ড সহ বিভিন্ন স্থানের মানুষ তার কাছ থেকে শাক কিনে থাকে। আর এই শাক বিক্রি করেই নাকি চলছে তার সংসার।
স্থানীয়রা আমার সংবাদকে জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই যুগ ধরে ফকির বাড়ি রোর্ডের রাস্তার পাশে বসে শাক বিক্রি করে যাচ্ছেন এই মানষিক প্রতিবন্ধি মোস্তফা খান। তবে তিনি অসহায় ও মানষিক প্রতিবন্ধী হয়েও পায়না কোন সরকারি অনুদান। গ্রামগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা শাক এনে বিক্রি করে ২/৩শ টাকা আয় হয়। আবার কোন কোনদিন হয়না কোন আয়রোজগার। এভাবেই চলছে তার জীবন যুদ্ধ।
অল্প দিয়েই ছেলে মেয়ের পড়ালেখা সহ চালাচ্ছে ৪ জনের সংসার।
হঠাৎ আমার সংবাদের প্রতিবেদকের সাথে মোস্তফা খান দেখা হয়। তাকে দেখে প্রতিবেদক শাক বিক্রির গল্প জানতে চাইলে মোস্তাফা বলেন, দেশ স্বাধীনের পরেই পিতা মাতা মারা যান। আত্মীয় স্বজনের কাছেই তিন ভাই বোন সহ বড় হয় মোস্তফা।
এর পর মানুষিক প্রতিবন্ধি হওয়ার কারনে তেমন গ্রহণ যোগ্যতা পাননি সমাজ এবং পরিবারের কাছে। বহুত প্রতিকুলতার মাঝেই চলতে থাকে জীবন।
বর্তমানে তিন ভাই বোন সহ বহু আত্মীয় স্বজন স্বচ্ছল থাকলেও কেউ ফিরেও তাকায় না তার দিকে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সরকারী কোন অনুদান মিলেনা সচারাচার। ঈদ অথবা কুরবানিতে প্রতিবেশীরা সাহায্য সহযোগীতা করে তাকে। আবার মেম্বার থেকে ১০ কেজি চাল পাই বছরে একবার।
তাই গ্রামগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা শাক বিক্রি করেই চালাতে হয় সংসার। মোস্তফা আবেগাপ্লুত হয়ে আরো বলেন, আমার আত্মীয় স্বজন কেউ আমার খোঁজ খবর নেয় না। তবে আল্লাহ্ আমায় খাওয়ান।
মোস্তফা এই শাক বিক্রি করে ১০ম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত একটি মেয়ের পড়া লেখা সহ আরেকটি সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে খুবই কস্ট হয়ে দাড়িয়েছে বর্তমানে। গণমাধ্যমের প্রচারের মাধ্যমে সুশীল সমাজের সকল দানবীরদের থেকে সাহায্য সহযোগীতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বরিশাল
২৬-০৬-২৫









































