পিরোজপুরে স্বতন্ত্র ও নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

ডিসেম্বর ১৮ ২০২৩, ১২:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পিরোজপুরে স্বতন্ত্র ও নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএমএ আউয়ালের সমর্থকদের সঙ্গে সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থীর সমর্থকদের দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮-১০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

এদিকে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মাদ জাহেদুর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং করে বলেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে আমরা তৎপর রয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা কঠোর হাতে দমন করতে কুণ্ঠাবোধ করব না।

দুপুরে হামলার এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএমএ আউয়ালের ছোট ভাই ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেকের ছেলে তানভীর মুজিব অভি বলেন, তাদের ওপর নৌকার সমর্থকরা হামলা করেছে। ওই হামলায় তিনিসহ তাদের (স্বতন্ত্র) কর্মী রনি দাশ, শরন চক্রবর্তীসহ ৫-৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অপরদিকে জেলার সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ সিহাব উদ্দিন জানান, ওই দিন দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা কদমতলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেন। পরে তারা উপজেলার পাঁচপাড়া বাজারের দিকে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে কদমতলা বাজারের ৬টি দোকান ভাঙচুর করে।

কদমতলা বাজারের ব্যবসায়ী কালু মোল্লা জানান, দুপুরে কিছু সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ওই বাজারের জাহাঙ্গীর শেখের হার্ডওয়্যার, কালু মোলার তেলের দোকান, জব্বারের মুদি দোকান, এনায়েতের গ্যারেজ, তপন সাহার মিষ্টির দোকানসহ ৬টি দোকান ভাঙচুর করে। হামলায় আহতদের ৩ জনকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নাছিমা বেগম (৩৮) জানান, তার স্বামীর অটো ভাঙচুর ও মরধরসহ তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে যায়। পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সদর উপজেলার মধ্য ডুমরিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মী প্রতিপক্ষের সমর্থকদের হাতে লালন ফকির নামের একজন সমর্থক খুন হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। এরই জের হিসেবে প্রতিদিনই শহরে মিছিল ও পাল্টা মিছিল এবং সমাবেশ হচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া


এক্সক্লুসিভ আরও