কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জিও ব্যাগের ফাঁদে পড়ে দুর্ঘটনা
আগস্ট ০১ ২০২৩, ১৯:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে জিরো পয়েন্টের দুদিকে প্রায় এক কিলোমিটার জুরে জিও টিউব এবং জিও ব্যাগ এখন পর্যটকদের মারাত্বক ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
পাউবোর উদ্যোগে সৈকত রক্ষায় জিও টিউব এবং জিও ব্যাগ বসানোয় বিপজ্জনক ছোটো-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্ত এখন আগত পর্যটকদের ভোগান্তির চরম কেন্দ্রস্থল পরিনত হয়েছে।
জিও টিউব এবং জিও ব্যাগ এখন সৈকতের পরিবেশে প্রতিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতে জিও টিউব এবং জিও ব্যাগ বসানোয় বিপজ্জনক ছোটো-বড় গর্ত হয়েছে।
ভাটার সময় থাকে ছিন্নভিন্ন বিশৃঙ্খলা পরিবেশ ও গর্তে কোমর সমান পানি জমে থাকে। খাঁদে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরায়ও বেগ পেতে হয়।
জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্টে প্রধান কেন্দ্রস্থলের দক্ষিন-পূর্ব ও পশ্চিম দিকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বনাঞ্চল নেই। মাত্র দেড় কিলোমিটার সৈকতের তীর রক্ষাকল্পে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ এবং জিও টিউব বসাচ্ছে (পাউবো) কতৃপক্ষ।
সৈকত রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো ২০১৮ সালের শেষের দিকে। তবে এর কোনোই সুফল মিলছে না।
পর্যটকরা বলছেন, বর্তমান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের এমন অবস্থায় অনেকেই কুয়াকাটা ভ্রমনের মুখ ফিরিয়ে নিবেন। যদি দ্রুত এই অন্যতম পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে উদ্যোগ না নেওয়া হয়।
এমন অব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে দক্ষিন জনপদে পর্যটন শিল্প হুমকির কবলে পরবে। তবে কুয়াকাটার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এসকল বিপজ্জনক গর্ত চিহ্নিত করার আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।
পর্যটকরা অনেকেই জোয়ারে সময় প্রথমবার সৈকতে গিয়ে কোনো ধারনা ছাড়াই গোসলে নেমে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার শিকার হয়।এসব সমস্যা গুলো তুলে ধরার জন্য সমুদ্র সৈকতে নেই কোনো সচেতনতা ব্যবস্থামূলক সাইনবোর্ড কিংবা জরুরী নির্দেশিত কোনো চিহ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ইতোমধ্যে সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দকৃত অর্থ কয়েক ধাপে ব্যয় করেও কোনো লাভ হয়নি। বরং পর্যটন এলাকায় আগত পর্যটকরা বহু বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সৈকত রক্ষায় জিও টিউব ও ব্যাগ ব্যবহার নদী রক্ষার ডিজাইনে করা হচ্ছে। এগুলো দরকার সমুদ্র রক্ষার ডিজাইনে করা।
পাউবোর কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ জানান, সৈকত রক্ষায় অস্থায়ীভাবে এ পরিকল্পনায় কিছুটা বালুক্ষয় রোধ হচ্ছে। তবে সৈকতের জিরো পয়েন্টে পর্যটকের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি ওয়াকিবহাল।
বর্তমানে ৭৫০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে সৈকত রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা পৌরভার মাধ্যমে তদন্ত করে পর্যকটদের সুবিধার জন্য সৈকতে জিও ব্যাগে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ যেসব গর্ত রয়েছে সেখানে লাল নিশান টাঙ্গিয়ে দেওয়া হবে।
তবে কুয়াকাটা উন্নয়নে স্থায়ী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে অচিরেই কুয়াকাটা সৈকতের তীর সমুদ্র গর্ভে চলে যাবে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দাবি জানান এই পৌর মেয়র।









































