সুগন্ধায় বিস্ফোরণের ১৪ দিন পর সরানো হলো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ

জুলাই ১৫ ২০২৩, ১১:০২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সাগর নন্দিনী ২ নামের তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণের ১৪ দিন পর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে মালিকপক্ষ।

শুক্রবার ভোরে ক্ষতবিক্ষত জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ডক ইয়ার্ডের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মিলন চাকমা জানিয়েছেন।

গগত ১ জুলাই ঝালকাঠি পৌরসভা খেয়াঘাটের অপর পাশে সুগন্ধা নদীতে নোঙর করা অবস্থায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেলসহ বিস্ফোরণ ঘটে সাগর নন্দিনী ২ জাহাজে। এতে জাহাজটির পেছনের অংশ উড়ে গেলে চারজন নিহত ও আরো চারজন দগ্ধ হন।

এর দুদিন পর দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণে জাহাজটিতে আগুন ধরে গিয়ে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলে। এতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১০ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত ও দগ্ধ হন।

দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণের আগে নন্দিনী-২ জাহাজে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৯ লিটার পেট্রোল ও ২৮ হাজার ৪৫৬ লিটার ডিজেল ছিল বলে দাবি পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষের। বিস্ফোরণের পর তেল থেকে সারা রাত আগুন জ্বলার কারণে অনেক তেল পুড়ে যায়।

২৫ জুন তেলবাহী সাগর নন্দিনী-২ জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে এসে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তেলের ডিপো-সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করে। জাহাজটিতে প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও ডিজেল) ছিল।

এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপোয় তেল খালাস করার অপেক্ষায় ছিল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটিতে ডিপো বন্ধ থাকায় তেল খালাস করা যায়নি।

ইঞ্জিন রুমে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জেলা প্রশাসকের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন প্রতিবেদন দিয়েছেন।

প্রথম দফায় তেল অপসারণের জন্য ইঞ্জিন রুমের জেনারেটর চালু করার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি নিয়ে আসা এবং কয়েক দিন নোঙর করে রাখার সময় গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ফিটনেসসহ অন্যান্য কাগজপত্রও সঠিক পাওয়া গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া