পটুয়াখালীতে বিএনপি নেতার মামলায় পলাতক অর্ধশত আ.লীগ নেতাকর্মী

এপ্রিল ১৬ ২০২৩, ১৯:০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. মাহবুল মুন্সী নামে এক বিএনপির নেতার করা মামলায় পলাতক হয়েছেন প্রায় অর্ধশত সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। দুই দফায় কিশোরদের মধ্যে মারামারির ঘটনা কেন্দ্র করে পুলিশি গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই সব নেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুল মুন্সীর দুই ছেলে ইয়াসিন ও আরাফাত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলবল নিয়ে গত ১০ এপ্রিল মো. মিহার হোসেন হৃদয় নামে এক ছাত্রলীগের কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই পর দিন ছাত্রলীগকর্মী মিহার লোকজন নিয়ে বিএনপি নেতা মাহবুল মুন্সীর দুই ছেলেসহ কয়েকজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ওই অভিযোগে বিএনপি নেতা মাহবুল মুন্সী বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হাওলাদার ও ছাত্রলীগের ২০ নেতাসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের নামে বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল দশমিনা থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় ছাত্রলীগকর্মী মো. নাজমুলসহ চারজনকে দশমিনা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। মামলার পর থেকে প্রায় অর্ধশত নেতা ঘর ছেড়ে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে ছাত্রলীগকর্মী মিহারকে মারধরের ঘটনায় তার বাবা মোস্তফা মৃধা বাদী হয়ে ১১ এপ্রিল দশমিনা আদালতে মামলা করলে আদালত দশমিনা থানা পুলিশকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

অভিযোগ আছে— বিএনপি নেতার করা মামলায় মামলার প্রধান আসামি সোহাগ প্যাদাকে না পেয়ে তার বাবা ভ্যানচালক হাদী প্যাদাকে গ্রেপ্তার করে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ লিটনের অভিযোগ, আ.লীগের নেতাকর্মীদের নামে মামলার বাদী বিএনপি নেতা হলেও তার দুই ছেলে ইয়াসিন ও আরাফাত কেন্দ্রীয় এক বিএনপির নেতা ও স্থানীয় এমপি এসএম শাহজাদার ছত্র-ছায়ায় রাজনীতি করছেন।

ইতোমধ্যে ওই বিএনপির নেতার দুই ছেলের সঙ্গে এমপির কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এমপি কিশোর গ্যাং নেতা ইয়াসিন ও আরাফাতকে আশ্রয় দিচ্ছেন এবং ওদের বিএনপি নেতা পিতাকে দিয়ে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদের নামে মামলা করিয়েছেন। যার কারণে আওয়ামী লীগের নেতারা এখন ঘরছাড়া।

এ বিষয় এমপি এসএম শাহজাদা সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো গুণ্ডা পালি না। স্থানীয় লোকজন জানে কে গুণ্ডাপাণ্ডা লালন-পালন করে।

যারা মারামারি করেছে, তারা কেউই আওয়ামী লীগের লোকজন না। তবে বিএনপির নেতার মামলায় কিছু আওয়ামী লীগের লোককে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকের সব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান এমপি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘরছাড়া ও হয়রানির অভিযোগের বিষয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, মামলার বাদী মামলা করেছে। এখানে কে বিএনপি আর কে আওয়ামী লীগ আমার জানা নেই। আমি নতুন এসেছি। আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া