ডেস্ক প্রতিবেদক ॥ পটুয়াখালীর দশমিনায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছে এ উপজেলার কৃষকরা।
দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর হলুদ ফুলের সমারোহ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এ হলুদের দৃশ্য। সবুজ গাছের মাথায় থাকা সূর্যমুখীর হলুদ ফুলগুলো বাতাসে দুলছে। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌমাছি আর প্রজাপতি। সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের সৌন্দর্য দেখতে সকাল-বিকেলে ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী-পুরুষ। সরকারি কর্মকর্তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটির দিনে ছুটে যাচ্ছেন সেখানে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়নের কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করছেন। এ ফসলের তদারকি করছেন কৃষি কর্মকর্তা। চলতি বছর এ উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে বীজ ও সারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছর উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছিল। আর চলতি বছর ৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। চাহিদা এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সূর্যমুখী চাষের দিকে দিন দিন ঝুঁকছে। অনেক জমিতে এ ফসল চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষকদের বাড়তি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের সূর্যমুখী চাষি কাজী কামাল জানান, এ বছরও আমি দেড় একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামের সূর্যমুখী চাষি সুলতান সর্দার, জাফর, আলম সর্দার, মোতাহার চৌকিদার ও নজরুল মৃধা বলেন, গত বছর আমরা ১০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলাম এবং ফলনও ভালো পেয়েছিলাম। এ বছর আমি প্রায় তিন একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ফলনও ভালো হয়েছে।
বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামের সূর্যমুখী ক্ষেত ঘুরে দেখতে আসা নুপুর রানী, সরমিলা, শুক্লা, লামিয়া, মিজানুর, হারুন ও মারুফা বলেন, সূর্যমুখীর ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ক্ষেত। এজন্য আমরা এক গ্রামের লোকজন মিলে দেখতে ও স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলতে এসেছি। এসে অনেক ভালো লেগেছে। উপজেলার কাটাখালি গ্রামের চাষি জয়নাল মৃধা জানান, চলতি বছর আমি এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি আর ফলনও ভালো হয়েছে।
কৃষকরা আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় আবহাওয়া ভালো থাকায় সারা ক্ষেতে ফুল আর ফুল।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর অহাম্মেদ জানান, এ বছর উপজেলায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে আর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এ সম্ভাবনা আরো বাড়বে।









































