বরগুনা-১: এমপি শম্ভুর ৫ বছরে সম্পত্তি বেড়েছে চারগুণ

ডিসেম্বর ০৬ ২০২৩, ১৭:৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর নিজের কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তবে তাঁর স্ত্রী মাধবী দেবনাথের নামে ২৯ লাখ ৪৫ হাজার ১২৪ টাকার এবং ৫৩ লাখ ২৪ হাজার টাকার দুটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন।

হলফনামা ঘেঁটে দেখা যায়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি শম্ভু ও স্ত্রীর বার্ষিক আয়সহ মোট স্থাবর-অস্থাবর মোট ৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৭ হাজার ২০৮ টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে ৫ বছর আগে ২০১৮ সালে শম্ভু ও তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয়সহ মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ৯৭০ টাকার। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে শম্ভু ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ৬ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৩৮ টাকার। অর্থাৎ, ৫ বছরে চারগুনেরও বেশি সম্পদ বেড়েছে এমপি শম্ভুও তাঁর স্ত্রী মাধবী দেবনাথের।

তবে একমাত্র ছেলে সুনাম দেবনাথের কোনো আয় বা সম্পদের তথ্য দুটি নির্বাচনের কোনো হলফনামায়ই উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়াও এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আমতলা সড়কে একটি ও বরগুনা সদর রোডে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি বাড়ি থাকলেও হলফনামায় এসব বাড়ির কোনো তথ্য দেননি।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু দুটি নির্বাচনেই নিজের পেশা দেখিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বরগুনা জজ কোর্টের আইনজীবী ও আইনি পরামর্শক। যদিও ১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পেশায় অনিয়মিত এবং ১৯৯৬ সালের পর থেকে তিনি আইন পেশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।

২০১৮ ও ২০২৩ সালের দুটি সংসদ নির্বাচনেই এমপি শম্ভু আয়ের প্রধান উৎস দেখিয়েছেন আইন পেশা। এছাড়াও ব্যাংকে জমা সুদের টাকা ও এমপি হিসেবে সম্মানী এই তিনটি তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে হলফনামায় দেখিয়েছেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপি শম্ভু আইন পেশা থেকে ২০ লাখ ৬০ হাজার, ব্যাংকে আমানতের বিপরীতে সুদ ৯১ হাজার ৮৩৬ টাকা ও এমপি হিসেবে সম্মানী বাবদ ৩৩ লাখ টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে আইন পেশা থেকে আয় কমে ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা হলেও ব্যাংক সুদ ১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১ টাকা হয়েছে। তবে এমপি হিসেবে সম্মানী বাবদ তিনি ৩২ লাখ ৬০ হাজার পেয়েছেন।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি শম্ভু হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর হাতে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার, ব্যাংকে জমা ২০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৩ টাকা এবং এফডিআর জমা ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর কাছে নগদ ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৮ টাকা ও সঞ্চয় ১২ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ ছাড়াও ৩০ হাজার টাকা দামের ২০ তোলা স্বর্ণালংকার, ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক (টিভি, ফ্রিজ ওভেন) ও ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র (চেয়ার, টেবিল সোফা) রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এ ছাড়াও স্ত্রীর ২০ তোলা স্বর্ণ যার দাম ৬ হাজার, ১২ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র থাকার কথা উল্লেখ ছিল। ওই বছর এমপি শম্ভুর কাছে ৬৪ হাজার টাকার পিস্তল ও শর্টগান রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ, ব্যাংক জমা ২০ লাখ থেকে বেড়ে ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৯২ টাকা, এফডিআর ও সঞ্চয় ৬০ হাজার থেকে ৪৫ লাখ ও ২২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ টাকা হয়েছে।

এ ছাড়ও স্ত্রীর কাছে গতবার নগদ আড়াই লাখ থাকলেও এবার তা কমে নগদ ২৫ হাজার, স্ত্রীর ব্যাংকে জমা ১২ থেকে বেড়ে ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭১৪ টাকা, এফডিআর জমা আছে ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৫১৪ টাকা হয়েছে। তবে স্বর্ণালংকার ১৬ তোলা থেকে বাড়েনি দুজনার কারোই।

এছাড়াও নিজের ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাবপত্র ২০ হাজার টাকা থেকে বড়ে ৪০ হাজার, ১২ হাজার টাকার থেকে বেড়ে মোট ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকও আসবাবপত্র রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে এমপি শম্ভুর কাছে ৬৪ হাজার টাকার পিস্তল ও শর্টগান থাকলেও এবার তাঁর কাছে ২২ বোর একটি রাইফেল একটি পিস্তল রয়েছে যার দাম ২ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামায় তাঁর নামে ৬৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৭ টাকা মূল্যের একটি ল্যান্ড ক্রুইজার ও ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা মূলের একটি টয়োটা গাড়ি এবং তাঁর স্ত্রী মাধবী দেবনাথের একটি ১৬ লাখ টাকা মূল্যেও মাইক্রোবাস থাকার কথা উল্লেখ্য করলেও ২০২৩ সালের হলফনামায় ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৬ টাকার একটি এবং ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ির থাকার উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তাঁর স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ টাকা একটি গাড়ি রয়েছে। তবে গাড়ির ব্রান্ড ও মডেল উল্লেখ করেননি।

২০১৮ সালে শম্ভুর স্থাবর সম্পদের ছিল ৩ একর কৃষি জমির কথা উল্লেখ থাকলেও জমির দামের কোনো তথ্য দেননি। আবার এবার তিনি ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকার কৃষির জমি থাকার উল্লেখ করলেও জমির পরি মান উল্লেখ করেননি।

২০১৮ সালে তাঁর ৩ একর ৪০ শতাংশ অকৃষি জমি যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা দেখিয়েছিলেন। তবে ২০২৩ সালে জমির পরিমাণ উল্লেখ না করলেও এবার তাঁর ৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অকৃষি জমি ও জমি বাবদ আরও অগ্রিম ৪ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

স্ত্রী মাধবী দেবনাথের নামে কৃষি বা অকৃষি কোনো জমিই নেই। তবে মাধবী দেবনাথের ২০১৮ সালে ২৯ লাখ ৪৫ হাজার ১২৪ টাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকলেও এবার ৫৩ লাখ ২৪ হাজার টাকার আরও একটি অ্যাপার্টমেন্ট যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, মাধবী দেবনাথের ৮২ লাখ ৬৯ হাজার ১২৪ টাকা মূল্যের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। হলফনামায় উল্লেখিত তথ্যের বিষয়ে জানতে বরগুনা -১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়াও তার ব্যবহৃত নম্বরের ওয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিলেও সাড়া মেলেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া