বসত ঘরের মেঝেতে অলৌকিত ভাবে দুটি কবর ঘিরে তোলপাড়

নভেম্বর ০২ ২০২৬, ২২:২১

বরিশাল  : বসত ঘরের মেঝেতে অলৌকিত ভাবে জেগে ওঠা দুটি কবর ঘিরে এলাকার ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ঝাড়, ফুক, তেল পড়া ও বিভিন্নরোগের আরোগ্য লাভের আশায় ছুটে আসছেন নারী-পুরুষরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী এক সপ্তাহ পূর্বে অলৌকিক ভাবে বসত ঘরের মাঝে দুটি কবর জেগে উঠছে। এলাকার কেউ কেউ বিষয়টি মিথ্যা ও ভুয়া বলে দাবী করছেন। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের ভ্যান চালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী ছয় মাস পূর্ব থেকে ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। এ সময় তার কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতো। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়।

সজীবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন-গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তাদের বসত ঘরের মেঝে একটি কবর জেগে ওঠে। ওইদিন রাত ১২টার দিকে ওই কবরের পাশে আরেকটি কবর জেগে উঠেছে।

তাদের দাবি-ঘরের মধ্যে জেগে উঠা কবর দুটি হল বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতীর।

এ ঘটনা এলাকায় জানাজানির পরে উৎসুক লোকজন ওই বাড়িতে জেগে ওঠা কবর দেখার জন্য ভীড় করছে এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরের মেঝে জেগে ওঠা দুটি কবর নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একটি কবর দুই হাত ও অপরটি তিনহাত লম্বা। কবর দুইটির পাশে বাঁশের খুটির সাথে রশি দিয়ে ব্যারিকেট দেয়া।

সজীবের বাবা ছালাম বেপারীকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও সজীবের মা শিউলী বেগম বলেছেন, আমার ছেলে সজীব দীর্ঘদিন অসুস্থ্য ছিল। বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা নিয়েও ভাল হয়নি। ছয়মাস পূর্বে নিজ বাড়িতে স্বপ্ন প্রাপ্ত হয়ে সে বাড়িতে ধ্যানে বসে নিজে সুস্থ্য হয় এবং বিভিন্ন মানুষকে রোগের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করেছে।

পূর্বে হোটেলে বয়ের কাজ করা সজীব বেপারী জানিয়েছেন- দীর্ঘদিন থেকে আমি ধ্যানে বসে লোকজনকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছি। হঠাৎ করে ২৬ অক্টোবর সকালে আমার বসত ঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। একইদিন রাতে আরেকটি কবর একই ঘরের মেঝে জেগে ওঠে। কবর দুটি হল বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতীর।

আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এধরনের ঘটঁনার কোন নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে আসল ঘঁটনা বেড়িয়ে আসবে।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন-পুরো ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপম মজুমদার বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া