বিসর্জনে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা
অক্টোবর ২১ ২০২৬, ২৩:২৫
বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা ও উৎসব শেষে বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
বিকেলে রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য ও শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। পরে নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় বিসর্জনস্থলে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দেবীর কাছে মঙ্গল কামনার পাশাপাশি অনেকে নদীর পানি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।
সকালে বিভিন্ন মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারীরা। দেবীর পায়ে সিঁদুর নিবেদন শেষে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।
বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলে দায়িত্ব পালন করেন সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও নিয়োজিত ছিল।
এদিকে, চট্টগ্রাম নগরেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় মূল আয়োজন। এ ছাড়া অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে আসেন ভক্তরা। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে প্রতিমায় তেল, সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিবেদন করেন তারা। ঢাকের তালে নাচ-গান ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনস্থল। বিদায়ের মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু।
চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ঘাটগুলোতে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পতেঙ্গা সৈকত ও আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।
দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকেও একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।









































