বরিশালের গৌরনদীতে এখনও

উদঘাটিত হয়নি চাঞ্চল্যকর পাঁচ হত্যাকান্ডের রহস্য!

ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০২৬, ২১:৫৭

বরিশাল  ॥ বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে বরিশালের গৌরনদীতে চাঞ্চল্যেকর পাঁচটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় পাঁচটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেপ্তার হলেও অন্য চারটি হত্যকান্ডের রহস্য কিংবা আসামী গ্রেপ্তার হয়নি আজও।

সূত্রমতে, ২০২০ সালের ১৯ আগষ্ট গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে নিজের ইজিবাইকে যাত্রী নিয়ে ভুরঘাটার দিকে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় উজিরপুর উপজেলার মোড়াকাঠী গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মামুন রাঢ়ী। নিখোঁজের আটদিন পর বার্থী ডিগ্রি কলেজের সামনের খাল থেকে ইজিবাইক চালক মামুনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুস সালাম হত্যা মামলা দায়ের করেন গৌরনদী মডেল থানায়। হত্যাকান্ডের ঘটনার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি হত্যার রহস্য কিংবা কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। নিহতের ভাই মাসুদ রাঢ়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরুতেই গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করেন।

পরবর্তীতে থানা পুলিশ হত্যার কোন ক্লু-উদঘাটন করতে না পারায় বাদি মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েকদফা সিআইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলসহ নিহতের নিজ গ্রাম পরিদর্শন করে সন্দেহভাজন একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেছেন।

তবে ঘটনার প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরেও অদ্যবর্ধি হত্যাকান্ডের কোন ক্লু-উদঘাটন কিংবা নিহতের ব্যবহৃত ইজিবাইক উদ্ধার করতে পারেননি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। অপরদিকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকাল নয়টার দিকে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের গোলাম নবী হাওলাদারের পাট ক্ষেত থেকে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সের অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাশের গায়ে নেভি ব্লু রংয়ের একটি টি-শার্ট ও পরনে জলপাই রংয়ের একটি গ্যাভাডিং প্যান্ট ছিলো।

নিহতের গায়ের রং কালো, উচ্চতা ৫ ফুট, কোকড়ানো দাঁড়ি, মোচ ও চুল। মরদেহটি ফুলে শরীরের বিভিন্নস্থানে ফোসকা ও পচন ধরেছিলো। লাশের দুই পায়ের হাটুর নিচে গোড়ালির উপরে মাংসপেশি বিচ্ছিন অবস্থায় পাওয়া গেছে।

তৎকালীন সময় পুলিশের ধারনা ছিলো কোন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ১৭ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ওই যুবককে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য ওই পাট ক্ষেতে ফেলে রেখে গিয়েছে। মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের চৌকিদার মাহবুব মৃধা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে লাশ উদ্ধারের দিন রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

অজ্ঞাতনামা ওই লাশের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এসআই নজরুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, নিহতের পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

ঘটনার ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় মেলেনি। যেকারণে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হচ্ছেনা। অপরদিকে ২০২৪ সালের আগষ্টে গৌরনদী উপজেলার বড়দুলালী গ্রামের কালাম সিকদারের ছেলে ও বার্থী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য রাশেদ সিকদারকে চাঁদার দাবীতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৫ জন গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে আসামীরা জামিনে রয়েছে। নিহতের ভাই রাসেল সিকদার বলেন, একলাখ টাকার চাঁদার জন্য আমার ভাইকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এঘটনায় মামলা দায়ের করেছি। আসামীরা অল্পদিনের ব্যবধানে জামিনে বের হয়ে আসছে। ফলে সঠিক বিচার পাবো কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের নিজবাড়ির পুকুরের ঘাটলার নিচ থেকে ক্ষত অবস্থায় উপজেলা যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম হাওলাদারের (৪২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় নিহতের ভাই মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের ভাই মাজহারুল ইসলাম বলেন-ঘটনার চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেপ্তার কিংবা হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার এসআই আলাউদ্দিন জানিয়েছেন-মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান আছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কার্যক্রম চলছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রাত এগারটার দিকে গৌরনদী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব কাসেমাবাদ এলাকায় নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন ভ্যান চালক মঞ্জু বেপারী (৫০)। যাত্রী নামিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে উপর্যপুরি ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের ছেলে স্বাধীন বেপারী অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এঘটনায় একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য কিংবা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল এসআই আরিফ হোসেন জানিয়েছেন-এঘটনায় সন্দেহ ভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কিছু পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীদের সনাক্তকরনের কাজ চলমান আছে। সার্বিক বিষয়ে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মোঃ আনছার উদ্দিন জানিয়েছেন-ক্লুলেস মামলাগুলোর রহস্য উদঘাটনের জন্য সিআইডির কাছে আবেদন করা আছে। এছাড়াও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া

পুরাতন সংবাদ খুঁজুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

এক্সক্লুসিভ আরও