বরিশালে জাল দলিলে নামজারির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩
জুলাই ১৭ ২০২৬, ১৯:৩০
সরকারের অর্পিত (ভিপি) সম্পত্তির দলিলের তফসিল পরিবর্তন করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমির নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিএনপির এক নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে ভূমি অফিসে জাল দলিল ও দালালচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাবুগঞ্জ থানা ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তরা একটি দলিলের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি জমির নামজারির আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাইয়ের সময় দলিলের তথ্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বরিশাল থেকে দলিলের সহিমোহরকৃত (সার্টিফায়েড) কপি সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে মূল দলিলের সঙ্গে জমাকৃত কপির তুলনা করে দেখা যায়, দলিলের তফসিল পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের অর্পিত (ভিপি) সম্পত্তি নিজের নামে নামজারি করার প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর নামজারির তদবির করতে অভিযুক্তরা ভূমি কার্যালয়ে এলে তাদের আটক করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় চারজনকে আসামি করে নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৬) দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের মো. নাঈম (৩৫), নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), আব্দুর রহিম (৫৫) ও তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে আব্দুর রহিম মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন মো. নাঈম, নূর ইসলাম মোল্লা ও আব্দুর রহিম। পলাতক তোফাজ্জেল হোসেন টিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরিশাল থেকে দলিলের সহিমোহর কপি সংগ্রহ করে যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে মূল দলিল ও জমা দেওয়া কপির মধ্যে তফসিল পরিবর্তনের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নামজারির তদবির করতে এলে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে দালালি ও তদবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা অন্য অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, “জাল দলিল, ভুয়া কাগজপত্র কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে কেউ যদি নামজারি বা ভূমি-সংক্রান্ত কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি সেবাকে স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”








































