বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে আল আমিন বাহিনীর সদস্যরা
সেপ্টেম্বর ১০ ২০২৪, ২০:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক: একাধিক মামলার আসামি হলেও নগরীর দুটি কলোনীবাসীর আতঙ্ক চিহ্নিত সন্ত্রাসী আল আমিন বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক হওয়া বাহিনীর সদস্য এবং মাদক কারবারিকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল প্রেসক্লাবে সিটি করপোরেশনের ১০ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এসময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং মাদকের বিস্তার ঠেকাতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো চাঁদমারী বঙ্গবন্ধু কলোনীর আল আমিন বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের দাবি জানান এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁদমারী বঙ্গবন্ধু কলোনীর বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম।
তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের পতন হলেও সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পাননি ১০ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী দুটি কলোনীর কয়েক হাজার মানুষ। এখনো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দুঃশাসন এবং সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন তারা।
সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘এক সময় কিশোর গ্যাং দিয়ে সৃষ্টি চাঁদমারী বঙ্গবন্ধু কলোনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আল আমিন বাহিনীর। বাহিনীর প্রধান আল আমিন ইতিপূর্বে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।
তার নেতৃত্বে গত ১৬টি বছর বঙ্গবন্ধু কলোনীতে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা, অসহায় মানুষের বাড়ি-ঘর দখল এবং বিদ্যুৎ চুরি করে অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারির রিকশা চার্জ দেয়ার ব্যবসাসহ সকল ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল।
এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে কিশোর এবং যুব সমাজকে মাদকের নেশায় আশক্ত করে সাম্রাজ্য গড়াই ছিল আল আমিনের মূল লক্ষ্য। তার বাহিনীতে রয়েছে- বাপ্পি, রাকিব, আজিজুল, পলাশ, রুবেল, দেলোয়ার, বেল্লাল, লিটু, রনি, সাব্বির, রাব্বি, খাটো রাসেল, রুমা, লিলি, সুমি, ফরিদা।
এ সন্ত্রাসী বাহিনীর গডফাদার মজিবুর ও সিদ্দিক। আল আমিন ও তার এ বাহিনী এতটাই দুর্ধর্ষ এবং হিংস্র যে তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বাহিনীর প্রধান আল আমিনের বিরুদ্ধেই ১৭টি মামলা। অথচ তাদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী সরকার পতনের পরেও আল আমিন বাহিনীর সন্ত্রাসী এবং দুর্বৃত্তপনা থেমে থাকেনি। গত ২ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কলোনীর বাসিন্দা শ্রমিকদল নেতা আসলামের পিতা রিকশা চালক আব্দুর রহিম হাওলাদারকে কুপিয়ে জখম করে আল আমিন ও তার বাহিনী। এর দুদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর রাতে স্ব-মিল শ্রমিক সুমনকে আটকে রেখে মারধর করে আল আমিন বাহিনী।
খবর পেয়ে পুলিশসহ এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে বাহিনীর সদস্যরা। এতে দুই পুলিশসহ আহত হয়। নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করা হয় মহানগর মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদাউস হাওলাদার, শ্রমিকদল নেতা আসলাম, বাহাদুর, সুমন, সনিয়া, মামুন ও তানজিলকে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের যারা হাসপাতালে নিয়েছেন তাদেরকেও এলাকা ছাড়া করে দুর্ধর্ষ আল আমিন বাহিনী। সবশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডবাসির সহযোগিতায় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আল আমিন ও তার অন্যতম সহযোগী ফয়সালকে গ্রেফতার করে। ওইদিন রাতেই আওয়ামী শাসনামলে নির্যাতিত এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা বঙ্গবন্ধু কলোনী থেকে আল আমিন বাহিনীর সদস্য আজিজুল, রুমা, সুমি এবং লিলিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
কিন্তু এদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে বরং একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও চাঁদমারীর মাদক কারবারি রুমাকে থানা থেকেই ছেড়ে দেয় পুলিশ। এমনকি পুলিশের দুর্বল ভূমিকার কারণে সুমী এবং লিলি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে কলোনীতে ফিরে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক কারবার শুরু করেছে।
তিনি দাবি করেন, ‘বাহিনীর অন্য সদস্যরাও একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্যেও গ্রেফতার হচ্ছে না। বরং বীরদর্পেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হুমকি-ধামকী দিচ্ছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তাই আল আমিন বাহিনীর অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির দাবি জানান সাইদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সাইদুলসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমানের নেতৃত্বে বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন আল আমিন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করীম রনিসহ বিএনপির কতিপয় নেতার সহযোগিতায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে আল আমিন বাহিনীর সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুক কবির, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম, মামুনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









































