বরগুনায় ধানি জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ, দিশেহারা কৃষক

নভেম্বর ১৭ ২০২৩, ১৯:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: জেলার আমতলী উপজেলায় শত শত একর জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামনের শুকনো মৌসুমে ধান না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমতলী উপজেলায় ২৩ হাজার ৩শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেসকারী এক পরিসংখানে দেখা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আন্তত শতাধিক হেক্টর জমি মাজরা পোকায় আক্রান্ত হয়েছে।

মৌসুমের শুরুর দিকে ক্ষেতের রোপা আমন ধান গাছের চেহারা ভালো থাকলেও মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্ষেতের পর ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ধান গছের সর্বনাশী মাজরা পোকার আক্রমণ। অক্টোবর মাসের ৩ থেকে ৫ তাারিখ সময়ে টানা ভারি বর্ষণে ধান ক্ষেত তলিয়ে যায়। এসময় থেকেই শুরু হয় মাজরা পোকার আক্রমণ। ক্ষেতের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর রোদের তাপে মাজরা পোকায় আক্রান্ত ধানের গাছ শুকাতে থাকে। রোদের তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেতের পর ক্ষেত আমনের ধানের চারা শুকিয়ে বিবর্ণ হওয়ার চেহারা দখা যাচ্ছে। বহু কষ্টে লাগানো নিজের ক্ষেতের এ অবস্থা দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

দেখা গেছে, আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিয়াখালী, মানিকঝুরি, নীলগঞ্জ, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া টেপুরা, উত্তর তক্তাবুনিয়া, কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়া গাছিয়া, চরখালী, চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী, কালিবাড়ি, পাতাকাটা ঘুরে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ মাজরা পোকার আক্রমণে ধানের গাছ বিবর্ণ হয়ে গেছে। গাছগুলো এমনভাবে শুকিয়ে গেছে তাতে আর ফসল না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকের বিপুল পরিমাণ জমিতে ধান না হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়া গাছিয়া খানকা এলাকার কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন ৩৬ শতাংশ জমিতে বিআর-২৩ লাগিয়েছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, পোকার আক্রমণে সব ক্ষেত শুকিয়ে গেছে। মৌসুমে ধান তুলতে পারবেন না। এলাকার সেরাজুল হক মৃধা বলেন, তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে বিআর -২৩ লাগিয়েছেন খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। মাজরা পোকার আক্রমণে সব শেষ হয়ে গেছে। একই গ্রামের আলমগীর সিকদার, ইউনুস ঘরামী নারায়ন ডাক্তার, ওয়াজেদ ঘরামীসহ অনেক কৃষকের ক্ষেত মাজরা পোকার আক্রমনে ধানের চারা শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।

পশ্চিম কেওয়া বুনিয়া গ্রামের রফিক হাওলাদার, আমতলী সদর ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামের সুলতান বিশ্বাস, নিজাম হওলাদার ,নজীর গাজী, হলদিয়া গ্রামের সানু, আঠার গাছিয়া গ্রামের তালেব বলেন, তাদের জমিও পোকায় খেয়ে ফেলেছে কোন প্রতিকার কতে পারেননি।কুকুয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, মাজরা পোকায় আমন ধানের মাঝ খানের ডগা গোড়া থেকে কেটে দেয়। প্রথমে এটা বোঝার কোন উপায় থাকে না। রোদে পাতা যখন শুকাতে থাকে তখন টের পাওয়া যায়।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইছা বলেন, আমতলী উপজেলায় ব্যাপক হারে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই মুহুর্তে তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করেছেন এবং তাদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমতলীতে মাজরা পোকায় ধান ক্ষেত আক্রান্তের খবর পেয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সায়েম রবিবার সকালে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়া গাছিয়া খানকা এলাকা পরিদর্শন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

আমাদের ফেসবুক পাতা

আজকের আবহাওয়া