বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি
ডিসেম্বর ১৯ ২০২২, ১৪:১২
ডেস্ক প্রতিবেদক : পৌষ পড়তেই সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্ক ব্যক্তি, নবজাতক ও শিশুরা। প্রতিদিন দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় হচ্ছে। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত আড়াই মাসে ৩ লাখের বেশি মানুষ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের সেবা নিয়েছেন। এ হিসাবে গড়ে দিনে ৪ হাজার ১৭৪ রোগী সেবা নিয়েছেন। এ সময়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, এরই মধ্যে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শীত মৌসুমে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। মৃত্যুর হারও ঊর্ধ্বমুখী। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে এবার রোগীদের বেশিদিন ভুগতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা শীতের সময় নবজাতক, শিশু ও পরিবারের প্রবীণদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ নিয়ে অক্টোবর থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৮ দিনে ভর্তি হয়েছেন দেড় লাখের বেশি। অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে, ২ লাখ ৩০ হাজার ১৫৮ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী সিলেট বিভাগে, ১৫ হাজার ১২৫ জন। শীতজনিত রোগে সবচেয়ে কম আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে, ৮ হাজার ১৯৮ জন।
গতকাল সরেজমিন ঢাকা শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। চিকিৎসা নিতে আসাদের বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এখানে শীত শুরুর পর প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১ হাজারের বেশি শিশু সেবা নিচ্ছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন। আট মাস বয়সী ছেলে বসির আহমেদকে নিয়ে আজিমপুর থেকে আসা সাব্বির রহমান জানান, তিন দিন ধরে সর্দি, শ্বাসকষ্ট। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিউমোনিয়ার কথা বলেন চিকিৎসকরা। এখন অবশ্য অবস্থা উন্নতির দিকে।
ঢাকা শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শীতজনিত রোগে যেখানে হাসপাতালে ৩০৮ জন ভর্তি হয়েছে, সেখানে চলতি মাসের ১৮ দিনেই এসেছে ২৪৪ জন। তাদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অন্তত ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, চলতি মাসের শুরু থেকে হাসপাতালে রোগী ভর্তি বেড়েছে। শীতের প্রকোপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, শীতজনিত সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলাটাইসিস, ব্রঙ্কিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, বাত, আর্থ্রাইটিসের মতো রোগের সুরক্ষায় সচেতনতা ও গরম পোশাক ব্যবহার করতে হবে। খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার বেশি রাখতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর জানান, শীতজনিত রোগের প্রকোপের কথা ভেবে এরই মধ্যে অধিদপ্তর একটি এপিডেমিওলজি টিম গঠন করেছে। সব হাসপাতালে এ-সংক্রান্ত রোগের পর্যাপ্ত ওষুধ রাখতে বলা হয়েছে।
বায়ুদূষণের কারণে ঢাকায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেশি বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় শীতের তীব্রতা সবে শুরু। এর পরও এখানে রোগী বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় এখন মানুষ আগের মতো মাস্ক পরছেন না। ফলে শিশু ও প্রবীণরা মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।’









































