আর কি দখল করার বাকি আজাদের!

অক্টোবর ২৩ ২০২৬, ১৮:৪৬

আমার বরিশাল ডেস্ক,

সুমন ঘরামী, মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ তিনি এক জন শিক্ষক। তবে তিনি শিক্ষক হওয়ার পরও সরকার পতনের সাথে সাথে তিনি এখন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নে নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন একজন সহকারী অধ্যাপক মানে তিনি একজন শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষক কখনও কোন দলের নেতা হতে পারে না।

আবুল কালাম তিনি কি একজন শিক্ষক! না বিএনপির নাম নেতা পরিচয়দানকারী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাজ পেশায় তিনি এক জন শিক্ষক হয়েও নিজের স্বার্থ হাসিল করতে সরকার পতনের পর বিএনপির সাইবোর্ড ও নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে নিজ ইউনিয়নে। যেমন একটি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তার পরেও তিনি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ৫নং কাকরাবুনিয়া ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন।

তবে সেই কলেজের আশপাশের স্থানীয় একাধিক গর্নমান্য ব্যাক্তিদের অভিযোগ সরকার পতনের পর আবুল কালাম আজাদ তিনি বিএনপি’র নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে কলেজের সভাপতির পদটি জোর করে দখল করেছেন। আবুল কালাম আজাদ শুধু কলেজের সহকারী অধ্যাপকের পদ আর অন্য আরেকটি কলেজের সভাপতির পদ দখল করেই থেমে নেই। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সিনিয়ার সহ-সভাপতি ও ৫ নং কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান কমিটির সদস্য‘র পদ দখল করে রয়েছে। এতো কিছু দখল করার পর আজাদ শান্ত হননি।

এবার তিনি বাবার রেখে যাওয়া দুই সন্তানের সম্পত্তি ও বিশাল আকাড়ের একটি টিনের দোতলা ঘর সেটাকে রাতের আধারে সেই ঘরটিকে ভেঙ্গে তিনভাগের দুই ভাগই একা দখল করে নিয়েছে। বিষয়টি জানার পরে তার বড় ভাই এনামুল হক দুলাল প্রতিবাদ করলে স্থানীয় গর্নমান্য ব্যাক্তিরা শালিশ মিমাংসার মাধ্যমে সমাধান করে দেন। কিন্তু ছোট ভাই আবুল কালাম তিনি শালিসদারদের কথা অমান্য করে বড়ভাইর সম্পত্তি কিছু অংশ দখল করে সেখানে নির্মান করে যাচ্ছে বহুতল ভবন। যার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে ফের বড় ভাই এনামুল হক দুলাল প্রতিবাদ করায় উল্টো তার উপরে ক্ষিপ্ত হন আবুল কালাম আজাদ। এবং কি তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন। এবিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন অসহায় ভুক্তভোগী এনামুল হক দুলাল।

উল্লেখ্য, সোনাপুরা গ্রামের মৃত আলী আকবর মিয়া (সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান)-এর দুই ছেলে মোঃ এনামুল হক দুলাল ও মোঃ আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাবার পৈতৃক পুরোনো বসতঘরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। এনামুল হক দুলাল বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সত্বে তিনি বরিশাল বসবাস করছেন। সেই সুযোগে তারই ছোট ভাই আবুল কালাম আজাদ গত ১ অক্টোবর বড় ভাই এনামুল হক দুলালকে কোনো ধরনের পূর্ব অবহিতকরণ বা পারিবারিক আলোচনা ছাড়াই আবুল কালাম আজাদ লোকজন নিয়ে ওই পৈতৃক বসতঘরের মাঝখান থেকে কেটে ফেলেন।

এ সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এনামুল হক দুলাল। ঘটনার খবর লোকমুখে জানতে পেরে বরিশাল থেকে নিজ এলাকায় যান এনামুল হক দুলাল। সেখানে গিয়ে বসতঘরের এমন অবস্থা দেখে তিনি হতবাক ও দিশেহারা হয়ে পড়েন বলে জানান। এ বিষয়ে এনামুল হক দুলাল বলেন, “বাবার পৈতৃক বসতঘরে আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বসবাস করে আসছি। আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে বা আলোচনা না করে ঘরের মাঝখান থেকে কেটে ফেলা হয়েছে।

এতে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছি। বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছি।” তবে পৈতৃক সম্পত্তি ও বসতঘর নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে মোঃ আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....