১০ জনের কাঁধে ৭০ জনের কাজ

অক্টোবর ১৮ ২০২৬, ২০:০৫

আমার বরিশাল ডেস্ক,

অনুমোদিত ৭০ পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০ জন। বিপরীতে খালি পড়ে আছে ৬০ পদ। ফলে তীব্র জনবল সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বরিশাল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ফেরিসেবা।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের অভাবে ফেরি বিকল হলে তা পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনচালকদের।

এর ওপর আসন্ন শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনায় ফেরি অচল হলে সার্বিক পারাপারব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সওজের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দাপ্তরিক চিত্রে কঙ্কালসার দশা বিরাজ করছে।

ফেরি বিভাগের মূল অংশের ১২ পদের মধ্যে ৯টিই খালি (কর্মরত ৩ জন)। অন্যদিকে ফেরি উপবিভাগের ৫৮ পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র সাতজন।
সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ৫১টি।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে। ভারী গাড়িচালকের আটটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন, সহকারী মেকানিকের ছয় পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। আর সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান, মেশিনিস্ট, ওয়েল্ডার, ফিটার, পেইন্টার ও হেলপারের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পদগুলো প্রায় শূন্য।

বরিশালের বিভিন্ন নদীপথে যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে ফেরির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে লোকবল সংকটের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রুটে সন্ধ্যার পর ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বরিশালের মুলাদীর বাসিন্দা মেহেদী হাসান শুভ জানান, বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ ঘাটে রাত ৮টার পর আর ফেরি মেলে না। এতে বরিশাল-মুলাদী রুটে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষকে প্রতিদিন বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে নথুল্লাবাদ টার্মিনাল থেকে হিজলা ও মুলাদী রুটে সন্ধ্যা ৭টার পরই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় জানিয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের নির্বাহী সদস্য ফয়সাল আহম্মেদ নূর পাভেল জানান, ফেরি সার্বক্ষণিক চালু থাকলে রাতেও বাস সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হতো।

অন্যদিকে বানারীপাড়ার বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার বলেন, বানারীপাড়া পৌর শহরের খেয়াঘাটসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে ফেরি নয়, খেয়াই মানুষের একমাত্র ভরসা। কারণ, একজন মাত্র ব্যক্তি এই ফেরি পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় তাকে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। যদিও সম্প্রতি ফেরিচালকের সহযোগিতায় একজন যুবক রয়েছেন, তাকে দিয়ে পারাপারে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। কিন্তু রাতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করেও সেবা মেলে না। তাই ফেরি বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল থাকলে এ সংকট কেটে যাবে বলে মত তার।

প্রয়োজনের মাত্র ১০ শতাংশ জনবল নিয়ে এত বড় একটি সেবা চালানো অসম্ভব জানিয়ে বরিশালের অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ফেরি বিকল হলে খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবহারে অতীতে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এখন সমস্যা জনবলে। তাই দ্রুত নতুন নিয়োগ দিয়ে পদগুলো পূরণ না করলে এ সংকট কাটবে না।

এদিকে সওজ বরিশাল ফেরি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ এহ্তে শামূল হোসেন জানান, কোনো ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে তা দ্রুত মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হলেও এই সীমিত জনবল নিয়েই তারা পারাপার সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....