পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক নজরদারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পায়রা নদীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে মা ইলিশ শিকার। নিষিদ্ধ সময়েও প্রতিদিন অবাধে ইলিশ শিকার করছেন এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাংগাশিয়ার হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পায়রা নদীর পাংগাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আংগারিয়া, মুরাদিয়া, লোহালিয়া ও পান্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। নদীতে মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে অত্যাধুনিক ফাইটার ইঞ্জিন লাগিয়ে বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলেরা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় ৩০-৩৫ টি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে জেলেরা নির্বিঘ্নে নদীতে জাল পেতে মা ইলিশ শিকার করছেন। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমাদের টহল টিম একটু আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। আমাদের লোকবল ও একটি মাত্র টহল টিম থাকার কারণে সব জায়গায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে আমরা টহল টিম বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি আজ সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’’
এদিকে নদীতীরবর্তী স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এভাবে অবাধে মা ইলিশ ধ্বংস করা হলে আগামীতে ইলিশের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে পাংগাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, ‘‘এভাবে যদি নির্বিচারে মা ইলিশ ধরা হতে থাকে, তবে অচিরেই আমাদের নদীগুলো ইলিশ শূন্য হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে বাজারে ইলিশ মাছ আর পাওয়া যাবে না। অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।’’
