উজিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মোহরার জসিমের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন!
অক্টোবর ০৯ ২০২৬, ২৩:৪৭
শ্যামল দাস ॥ বরিশালের উজিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও মোহরার মোঃ জসিম উদ্দিনের সম্পদ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, অর্জনের উৎস এবং চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন বলে পরিচিত বরিশালের আমানতগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকায় একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। বাড়িটি নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। একজন সরকারি কর্মচারীর আয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ৮ হাজার ৮০০ টাকা বেতন স্কেলে চাকরিতে যোগদানের পর বর্তমানে তাঁর বেতন স্কেল ১২ হাজার ১০০ টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট পদ, বর্তমান বেতন-ভাতা এবং চাকরির নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ও আয়ের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান।
অভিযোগকারীরা মনে করছেন, জসিম উদ্দিনের নিজ নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্পদ অর্জনের সময়কাল, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস, আয়কর নথি এবং চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয় পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আয়কর কর্তৃপক্ষের আইনানুগ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে কেবল সম্পদের পরিমাণ বা স্থানীয় আলোচনা থেকেই অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য নথি, সম্পদের মালিকানা এবং অর্থের উৎস যাচাই করা জরুরি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মোঃ জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
পরবর্তী পর্বে: জসিম উদ্দিনের কথিত সম্পদের বিবরণ, জমিজমার মালিকানা, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র এবং সম্পদের উৎস নিয়ে নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের তথ্য তুলে ধরা হবে।
