পটুয়াখালীতে অটোচালক জাকারিয়া হত্যা: মাস্টারমাইন্ডসহ গ্রেপ্তার ৩, ব্যাটারি উদ্ধার

সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২৬, ২২:০৮

আমার বরিশাল ডেস্ক,

মশিউর রহমান বাবলু, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোঃ জাকারিয়া শরীফ (২৮) নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের অটোরিকশা ও চুরি হওয়া তিনটি ব্যাটারি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. সাইফুল ইসলাম (২৯), তাঁর সহযোগী মো. মামুন হাওলাদার (২৯) এবং চোরাই ব্যাটারি ক্রয়কারী মো. শুক্কুর আকন (৪৫)।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাকারিয়া অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের লোহালিয়া নদী থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মোঃ রুহুল আমিন শরীফ বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই যৌথ তদন্তে নামে। শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামীদের শনাক্ত করে গাজীপুর থেকে মূল অভিযুক্ত সাইফুল, পটুয়াখালী থেকে মামুন এবং মহিপুর এলাকা থেকে ব্যাটারি ক্রেতা শুক্কুর আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের কাছে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, ভিকটিম জাকারিয়া ও সাইফুল পূর্বে মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন। ইয়াবা সরবরাহের কথা বলে সাইফুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন জাকারিয়া। কিন্তু ইয়াবা না দিতে পারায় তাঁদের মধ্যে বৈরিতা তৈরি হয়।

এরই জেরে জাকারিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সাইফুল ও মামুন। ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াবা কেনার কথা বলে জাকারিয়াকে লোহালিয়া নদীর তীরে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নেওয়া হয়। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিএনজির কেবল দিয়ে জাকারিয়ার গলায় ফাঁস দেন সাইফুল এবং পা চেপে ধরেন মামুন। শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যার পর অটোরিকশার ব্যাটারিগুলো খুলে নিয়ে গাড়িটি নদীতে ফেলে দেয় ঘাতকেরা। পরে ব্যাটারিগুলো মহিপুরের শুক্কুর আকনের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নদী থেকে নিমজ্জিত অটোরিকশা ও বিক্রি হওয়া তিনটি ব্যাটারি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....