কুয়াকাটায় ঝিনুকের ‘সাদা গালিচা’, মুগ্ধ পর্যটকরা
সেপ্টেম্বর ১৯ ২০২৬, ২০:৩৪
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতে দেখা মিলেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য এক দৃশ্য। ভোরের আলো ফুটতেই সৈকতের বালুচরে ভেসে উঠছে অজস্র সাদা ঝিনুক। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সাগরের তীরে কেউ বিছিয়ে দিয়েছে শুভ্র ঝিনুকের বিশাল গালিচা। প্রকৃতির এমন চমৎকার রূপ দেখতে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের ঢল নামছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য সামুদ্রিক ঝিনুক ও শামুক। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুরবন দোলনা পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা সাদা ঝিনুকে ঢেকে গেছে।
স্থানীয় জেলে মতি মিয়া জানান, শৈশবে সৈকতে হাজার হাজার ঝিনুক ভেসে আসতে দেখলেও মাঝে বহু বছর এর উপস্থিতি কম ছিল। গত বছর থেকে আবারও ঝিনুকের এমন বিপুল সমাগম দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং পর্যটকদের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি শিহাব ও সামিমা বলেন, এ জাতীয় মনোরম দৃশ্য তাঁরা আগে কখনো দেখেননি। চারপাশের সাদা ঝিনুক দেখে মনে হচ্ছে যেন রূপকথার কোনো সমুদ্রসৈকতে পা রেখেছেন। এই রূপ বজায় থাকলে কুয়াকাটার প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, ঝিনুকের এই প্রাকৃতিক উপস্থিতি পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কেউ যাতে অতিরিক্ত ঝিনুক কুড়িয়ে না নিয়ে যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মতিউর রহমান জানান, দীর্ঘ বছর পর সৈকতে এমন মনোরম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সৈকতের এই স্বাভাবিক রূপ ধরে রাখতে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা অঞ্চলের পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম জানান, দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সৈকতের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সোচ্চার রয়েছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার টানে ভেসে আসা ঝিনুকের এই উপস্থিতি কুয়াকাটা সৈকতে নতুন এক আবহ তৈরি করেছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও সচেতনতা থাকলে ঝিনুকের এই সৌন্দর্য কুয়াকাটার পর্যটন খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
