ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছবিতে সাতলার শাপলার বিল দেখেছি। কিন্তু সামনে থেকে এর সৌন্দর্য আরও বেশি। মনে হচ্ছে রূপকথার কোনো রাজ্যে চলে এসেছি।’
বরিশাল থেকে আসা দর্শনার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ‘পানির ওপর লাল শাপলা, চারদিকে সবুজ আর মাথার ওপর নীল আকাশ—সব মিলিয়ে অসাধারণ পরিবেশ। এখানে এলে শহরের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি ভুলে যাওয়া যায়।’
শাপলার মৌসুমকে ঘিরে স্থানীয় নৌকার মাঝিদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। দর্শনার্থীদের বিল ঘুরিয়ে দেখিয়ে আয় করছেন তারা। স্থানীয় নৌকার মাঝি শাহ আলম বলেন, ‘বছরের বেশিরভাগ সময় তেমন আয় থাকে না। শাপলার মৌসুম শুরু হলে প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা আয় করি। আলহামদুলিল্লাহ, এই সময়টা ভালোই কাটে।’
শাপলা এখন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, স্থানীয় অনেক মানুষের জীবিকারও অন্যতম মাধ্যম। প্রতিদিন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে উজিরপুরসহ বরিশাল শহরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন কিশোর ও যুবকরা।
স্থানীয় কিশোর মামুন বলেন, ‘প্রতিদিন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে উজিরপুরে বিক্রি করি। ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়, কোনো কোনো দিন আরও বেশি হয়। আমার বাবা নেই। চারজনের সংসার। শাপলার মৌসুমে ভালোভাবেই সংসার চলে।’
শাপলার মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাতেও এর প্রভাব পড়ছে। খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মোশারফ মিয়া বলেন, ‘শাপলার মৌসুম শেষ হলে বেচাকেনা কমে যায়। এই সময় পর্যটকদের ভিড় থাকে। মাঝে মাঝে বিদেশি পর্যটকরাও আসেন। তখন মোটামুটি ভালো বেচাকেনা হয়।’
স্থানীয়দের মতে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সাতলার বিলে শাপলা ফুটলেও আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। ভোর থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। নৌকাভ্রমণ, শাপলা সংগ্রহ ও স্থানীয় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ সময় বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, ‘সাতলার লাল শাপলার বিল উজিরপুরের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যটনকেন্দ্রটির আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
স্থানীয়দের দাবি, পর্যটকদের জন্য উন্নত নৌকাঘাট, বসার স্থান, শৌচাগার, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাতলার শাপলার বিলকে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ও বাড়বে।
