বসতবাড়ির পাশাপাশি ভাঙনের মুখে পড়েছে ২ ও ৩ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ এবং মোল্লা বাড়ি। নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এই স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা নিটুলী রানী জানান, সাতবার ভিটেমাটি হারানোর পর এখন সরকারি রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় জাকির খান (৫০) ও রিপন মাল (৩৭) জানান, বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাপ-দাদার ভিটে হারিয়ে তাঁরা এখন গৃহহীন ও দিশেহারা।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার জানান, ১৯৭৭-৭৮ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০টি পরিবারের জন্য বাকেরগঞ্জে জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রভাবশালীদের দখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তা পায়নি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পুরো বাহেরচর গ্রামটি আজ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পথে। নদীভাঙন রোধে অবিলম্বে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বাহেরচর গ্রাম রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাথে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
