ছুটির দিনেও সবজি বাজারে অস্বস্তি

আগস্ট ২৬ ২০২৬, ১২:৫৬

আমার বরিশাল ডেস্ক,
সকালে রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে পণ্যের দরদামের এই তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিটি বাজারেই পণ্যের দামে ১০ থেকে ২০ টাকার ব্যবধান দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজি বিকোচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। কিছুটা কম দামে শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। তুলনামূলক সবচেয়ে কম দামে মিলছে পেঁপে, কেজি ৪০ টাকা।

এদিকে সবজির চড়া মেজাজের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি এনেছে কাঁচা মরিচ। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় উঠেছিল, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় তা এখন মানভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

দাম চড়া সবজির তালিকায় রয়েছে লম্বা বেগুন (কেজি ১০০ টাকা), গোল বেগুন (১২০ টাকা) এবং টমেটো (১২০ থেকে ১৪০ টাকা)। এ ছাড়া বরবটি, ঝিঙা ও করলা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও কচুরমুখি ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজি কিনতে আসা রাবেয়া বেগম জানান, আগে অল্প টাকায় এক ব্যাগ সবজি কেনা গেলেও এখন ব্যাগে টাকা নিয়ে গেলেও সবজি মেলে না। দেশে উৎপাদিত সব পণ্যের দামই চড়া। ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণের কারণে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।

রায়ের বাজারের আরেক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে ১০০ টাকায় কয়েক পদের সবজি কেনা যেত। এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা শেষ। ফলে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে সামান্য পণ্য নিয়েই ফিরতে হচ্ছে।

বিক্রেতারা অবশ্য দাম বৃদ্ধির পেছনে সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও আবহাওয়াকে দায়ী করছেন। সবজি ব্যবসায়ী দিদারুল আলম জানান, অতিবৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মোকাম থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমে আসতে পারে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের বাজার চড়াই রয়ে গেছে প্রতি ডজন ১৫০ টাকা ও হালি ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ডজনে দুই-এক টাকা ছাড় পাওয়া গেলেও এখন তা মিলছে না।

মাছের বাজারেও নেই স্বস্তির আভাস। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২৩-২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১০-১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিকোচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি। রূপচাঁদা কিংবা নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

মাছ বিক্রেতা কাইয়ূম জানান, মাছের সার্বিক দামে বড় পরিবর্তন নেই, আগের দরই বজায় রয়েছে। তবে সরবরাহ ভেদে সপ্তাহে কোনো দিন ২০-৩০ টাকা কমলে পরদিনই আবার বেড়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....