বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ

আগস্ট ১২ ২০২৬, ২২:৩১

আমার বরিশাল ডেস্ক,

বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেলসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টার দিকে জুডিশিয়াল ভবনের সামনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেলসদৃশ একটি বস্তু বিস্ফোরিত হয়। শব্দ শুনে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। তবে বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

‎খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলেন। পরে বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আদালতের বিচারকরাও সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

‎এদিকে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা কাজ শুরু করেন। বিস্ফোরিত বস্তুর প্রকৃতি, কীভাবে এটি বিস্ফোরিত হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‎বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন আহমেদ পান্না বলেন, আদালত চত্বরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি নাশকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

‎আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিন বলেন, দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

‎অ্যাডভোকেট একেএম মীর জাহিদুল কবির বলেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। নাশকতার উদ্দেশ্যে কোনো মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। আগামী ১৬ আগস্ট বরিশালে আইনমন্ত্রীর সফরের কথা উল্লেখ করে মীর জাহিদুল কবির বলেন, এ সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
‎তবে আইনজীবীদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

‎বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত শেষে তা জানা যাবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

‎বিস্ফোরণের পর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....