প্রতিকূলতা জয় করে এসএসসিতে সাফল্য

আগস্ট ১০ ২০২৬, ২১:১৫

আমার বরিশাল ডেস্ক,

মাত্র ১৬ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছিল সামিয়া আক্তার। দুর্ঘটনার পর জীবন থমকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পড়াশোনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়নি সে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-২.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সামিয়া।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সামিয়া রিকশাচালক বাবার পরিবারের সন্তান। আর্থিক সংকট, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দুর্ঘটনার দীর্ঘ ছায়া, সবকিছুর মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে সে।

এসএসসি পাসের খবর পাওয়ার পর সামিয়ার পরিবারে যেমন আনন্দ, তেমনি তাকে ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন পাশে দাঁড়ানো মানুষজনও। তবে এই সাফল্যকে জীবনের শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখছে না সামিয়া। তার চোখ এখন আরও দূরের স্বপ্নে।

সামিয়ার সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একটি কৃত্রিম পা পাওয়া। সেটি পেলে আবার হাঁটতে চায় সে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। ভবিষ্যতে নিজের একটি পরিচয় তৈরি করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও দেখছে এই কিশোরী।

প্রায় দুই মাস আগে সামিয়ার দুর্ঘটনা ও জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ এবং উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের সমন্বয়কারী ঝুমু ও সীমা। এরপর সামিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সামিয়াকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয় প্রতিবন্ধী ভাতার। চিকিৎসার জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সহযোগিতায় দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিআরটিএর এককালীন অনুদানের জন্যও আবেদন করা হয়েছিল।

সম্প্রতি আবার সামিয়ার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হলে এবার তার মুখে ছিল ভিন্ন এক গল্প। আগের মতো শুধু দুর্ঘটনা ও কষ্টের স্মৃতি নয়, এসএসসি পাসের আনন্দ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের কথাই বলছিল সে।

সামিয়া জানায়, কৃত্রিম পা পেলে সে আবার হাঁটতে চায়। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। বড় হয়ে নিজের মতো করে কিছু করতে চায় এবং নিজের একটি পরিচয় তৈরি করতে চায়।

সামিয়ার এই সাফল্যে আনন্দিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি বলেন, “নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সামিয়া পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে এসএসসি পাস করেছে, এটি সত্যিই আনন্দের বিষয়। তার মানসিক শক্তি অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার।”

তিনি আরও বলেন, “সামিয়ার এখন কৃত্রিম পা লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার ইচ্ছা রয়েছে। তার এই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তারা পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।”

একটি দুর্ঘটনা সামিয়ার জীবনের স্বাভাবিক পথ বদলে দিয়েছে। তবে এসএসসি পাসের এই অর্জন যেন প্রমাণ করছে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার স্বপ্ন দেখার পথ আটকে রাখতে পারেনি। এখন প্রয়োজন সামিয়ার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন....