বরিশালের গৌরনদী উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলার আসামি মাফিয়া খ্যাত ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার ইলিয়াস গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে তাকে বরিশালের বিশেষ আদালতে পাঠায় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুরে অন্তত চারটি মানবপাচার মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল র্যাব-৮ এবং র্যাব-১২-এর যৌথ অভিযানে সিরাজগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওইদিন গভীর রাতে ইলিয়াসকে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে রাসেল বেপারীকে (২৯) ইতালি নেয়ার জন্য চুক্তি হয় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে। চুক্তিমতে গত ২৩ নভেম্বর দালালচক্রের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দেয় রাসেলের পরিবার।
পরে ২৪ নভেম্বর রাসেলকে শ্রীলঙ্কা নিয়ে যায় দালালচক্র। সেখান থেকে সৌদি, আরব, কুয়েত, মিশর, সর্বশেষ যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে মাফিয়ারা।একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। কয়েক ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদসহ আরও ২৪ লাখ টাকা চক্রের সদস্যদের কাছে দেওয়ার পর গত ১৬ জুন রাসেলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় দালালচক্র।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক দেশে ফিরে ১২ জুলাই বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনের নামে মামলা করেন। শুক্রবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার প্রধান আসামি ইলিয়াসকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এদিকে এই মানব পাচারচক্রের সক্রিয় সদস্য ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুরেও তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলে তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।